![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে গাজীপুরে প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আনসারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে গাজীপুরের বিশেষ আদালতে আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পরিদর্শক আব্দুল মান্নান।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গাজীপুর নগরের সামান্তপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে রায়হান উদ্দিন সরকার, সামন্তপুর এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে আশরাফুল আলম এবং নগরের নহরীর পাড় এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে শাকিল আহমেদ। তারা ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ও নিজ নিজ এলাকার টিডিপি দলনেতা ছিলেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০ মে জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশে একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তারা ইনস্ট্রাক্টর কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় জড়িতরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেখানে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সেইসঙ্গে অজ্ঞাত নম্বর ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর দরবারকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করা হয়।
১৭ মে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা প্রায় ১৭৭ সদস্যের মধ্যেও এ চক্র সক্রিয় ছিল। তাদের মাধ্যমে ভাতা বৃদ্ধি, রেশন সুবিধা, স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধার দাবি সামনে আনা হয়। এসব দাবি আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার বাদী মাসুদ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করা হয়। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।’’
কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।