সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টেস্ট ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় মুশফিক, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান এখন তিনিই

স্পোর্টস রিপোর্টার ::

বাংলাদেশ ক্রিকেটে টেস্ট ব্যাটিংয়ের আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়ের নাম এখন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে দেশের হয়ে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়ে শুধুই লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগী মুশফিকুর রহিম বরাবরই টেস্ট ক্রিকেটকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট হিসেবে দেখেছেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। আর এবার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেলেন মমিনুল হক-কে, যার টেস্ট সেঞ্চুরি ছিল ১৩টি।

সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চা-বিরতির পর পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস-এর বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন মুশফিক। সেই বাউন্ডারিতেই তিনি হয়ে যান বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে ৭১ রানে থেমে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তাই সিলেটে শতকের জন্য ছিল বাড়তি দৃঢ়তা। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন একদম নিখুঁত। ১০৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় তুলে নেন ফিফটি। এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। পরবর্তী ৫০ রান করেন মাত্র ৭৫ বলে, যেখানে ছিল ৬টি চার।

৯০ রানের ঘরে পৌঁছেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাঁকে। অফ স্পিনার সাজিদ খান-কে ডাউন দ্য উইকেটে বাউন্ডারি মেরে চাপ কমান। এরপর ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতেও বেছে নেন বাউন্ডারি শট।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি মুশফিকের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে খেলেছিলেন ম্যাচজয়ী ১৯১ রানের ইনিংস। দুই টেস্ট বিরতির পর আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে শতক তুলে নিলেন তিনি।

সেঞ্চুরির পর নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে উদযাপন করেন মুশফিক। হেলমেট খুলে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আবেগঘন সেই উদযাপনে করতালিতে ফেটে পড়ে সতীর্থরা।

চা-বিরতির সময়ও তাঁর অস্থিরতা চোখে পড়েছে। সবাই যখন ড্রেসিংরুমে, তখন মুশফিক দাঁড়িয়ে ছিলেন বাউন্ডারি লাইনের পাশে। অপরাজিত ৯০ রানে থাকা এই ব্যাটারের যেন মাঠে ফিরতে তর সইছিল না। বিরতির পর বাকি ১০ রান করতে খেলেছেন ২৩ বল।

সকালে নাজমুল হোসাইন শান্ত-কে নিয়ে ইনিংস শুরু করেন মুশফিক। এরপর একে একে আউট হন শান্ত, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে বড় লিড এনে দেন তিনি। লিটনের সঙ্গে ১৮৬ বলে ১২৩ রানের জুটি গড়েন। পরে তাইজুল ইসলামের সঙ্গেও গড়েন গুরুত্বপূর্ণ অবিচ্ছিন্ন জুটি।

তিন সংস্করণ মিলিয়ে মুশফিকের চেয়ে দুটি বেশি সেঞ্চুরি রয়েছে তামিম ইকবাল-এর। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে মুশফিক এখন নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। সিলেটে আরও একবার সেটিই প্রমাণ করলেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: