![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের বুরজান চা বাগানে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে চলা আন্দোলনের সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বাগান কর্তৃপক্ষ ও চা শ্রমিকদের উপস্থিতিতে সমঝোতায় পৌঁছে উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন ঘোষণা দেন, আগামীকাল শ্রমিকদের এক সপ্তাহের বকেয়া মজুরি এবং নিয়মিত শ্রমিকদের এক মাসের বেতন প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ মুরাদ আলী জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক শ্রমিককে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বাগানটির মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এবং ম্যানেজমেন্ট কার্যত ভেঙে পড়ায় আপাতত জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে বাগান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় চা পাতার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছিল। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল থেকে উত্তোলিত চা পাতাগুলো অন্য বাগানে বিক্রি করার চেষ্টা করা হবে। বিক্রির আয় জেলা প্রশাসন ও চা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে একটি ফান্ডে সংরক্ষিত থাকবে এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে শ্রমিকদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হবে।
চা বোর্ডের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, শ্রমিকদের তহবিলে ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে।
উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ চা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ঘোষণা দেন, আগামীকাল থেকে সব শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন। ফলে আপাতত বুরজান চা বাগানের চলমান শ্রমিক আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।
এই সমঝোতার ফলে চা বাগানে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।