![]()


সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা সীমান্তে চোরাচালান কার্যক্রম আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, তবে জোরালো অভিযানের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড় সীমান্তের জাদুকাটা নদী ও সাহিদাবাদ বিজিবি পোস্টের সামনে দিয়ে কয়লা ও পাথর পাচার হয়েছে। একইভাবে জাদুকাটা নদীর তীর কেটে শতাধিক পিকআপ ও মাহিন্দ্র গাড়িতে বালু বহন করা হয়েছে।
এদিকে, সন্ধ্যার পর চাঁনপুর সীমান্তের রাজাই, কড়ইগড়া ও বারেকটিলা দিয়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, অস্ত্র, গরু ও ঘোড়া পাচারের খবর পাওয়া গেছে। গত সাত দিনে এ সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল পাচার হয়েছে বলে জানা যায়। পাচারকৃত পণ্য থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় এই চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। লাউড়গড় সীমান্ত, সাহিদাবাদ বর্ডার বাজার, টেকেরঘাট ও বালিয়াঘাট সীমান্তে দিনভর ও রাতভর পাচার চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম। চারাগাঁও, লালঘাট, বাঁশতলা, জঙ্গলবাড়ি, বীরেন্দ্রনগর, মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও দোয়ারাবাজার সীমান্তেও চোরাকারবারীরা সক্রিয়।
তবে, শনিবার (১ মার্চ) ভোর রাতে একাধিক উপজেলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পান, সুপারি, চিনি, গরু, কয়লা, বিড়ি, মোটরসাইকেল ও সিএনজিসহ প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। তবে কোনো চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির পিএসসি জানান, “সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।