সর্বশেষ আপডেট : ৩৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বন্দরের টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে

তিনি বলেন, এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা ও অমূলক একটা কথা।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি সই হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশকে যদি সরকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যেতে না পারে, কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে?— প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তিটি করা হয়েছে।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি হবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও পোশাক রপ্তানিতে কখনও বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে, আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।

তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে আগামী দিনে পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের সেই অবস্থানটা আবার ফেরত নিয়ে আসবে।

এর আগে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় ও অনুদানপ্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতি) একটা নেশন। দেখতে এক রকম, চালচলন এক রকম, কথাবার্তা এক রকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট— এটাই আমাদের শক্তি।

সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাব। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজটা থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেকদিন হয়ে গিয়েছে, তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।

তিনি বলেন, নগর ও নগরের বাইরের অনেক সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলো এই শীত থেকে কাজ হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে রাস্তার পরিমাণ প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে এতদিনে আমরা করেছি কমবেশি প্রায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটারের মতো। বাকিটা করতে ১১০ বছর লাগবে না।

তিনি বলেন, আমরা আরেকটা প্রকল্প নিতে যাচ্ছি যাতে বাকিগুলির নির্মাণ কাজে আমরা হাত দিতে পারি। এটা একটা বড় প্রকল্প হবে। কারণ, যে কাজ ৫৫ বছর লেগেছে, সমপরিমাণ কাজ আগামী ৩-৪ বছরে শেষ করার জন্য যে পরিমাণ সাইজের প্রকল্প লাগে, সে রকম একটা প্রকল্প নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।

সিলেটের পানি সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা আছে। টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। আমরা আরেকটা বড় প্রকল্প নিতে যাচ্ছি। যেটা দিয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে সেটা আমাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সিটি করপোরেশনের সঙ্গেই কাজ করেন আমাদের একটা জনগোষ্ঠী আছে (হরিজন সম্প্রদায়)। আমাদের সেই ভাইবোনেরা তারা রীতিমতো মানবেতর জীবনযাপন করেন। আমি নিজে তাদের ঘরের মধ্যে গিয়েছি। এক একটা রুমের মধ্যে বাবা-মা, ছেলে, ছেলের বউ— এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর একটা অবস্থা। আমরা আগামীতে তাদের জন্য একটা পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। তাদের জন্য একটা স্বতন্ত্র আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, একইভাবে চা বাগানগুলিতে স্কুল নাই। তো সেখানে যেন সরকারিভাবে স্কুলের নির্মাণ করা হয়। আমাদের এই সিলেট সিটি করপোরেশনের এক নির্বাচনি আসনের মধ্যেই ১২টা চা বাগান আছে। সেজন্য আমরা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: