সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও মাল্টা আমদানিতে বেশি শুল্ক

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

দেশে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চেয়েও তাজা ফল মাল্টা আমদানিতে বেশি শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলা বা হাইব্রিড মার্সিডিজ বেঞ্জ আমদানির চেয়ে মাল্টার ওপর আরোপিত করভার অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে এই ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে একটি টেসলা গাড়ি (৫০ হাজার ডলার মূল্যের) আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক-করভার পড়ে ৮০ শতাংশ। বিওয়াইডির ক্ষেত্রে তা ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে, মার্সিডিজ বেঞ্জের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে শুল্ক দিতে হয় ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অথচ ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত সাধারণ ফল মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ট্যারিফ অনুযায়ী, অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করের হার মাল্টার চেয়ে কম।

উচ্চ শুল্কের কারণে সম্প্রতি খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকায় উঠেছিল (বর্তমানে যা ৪০০ টাকা)। অথচ আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার দাম প্রায় ৮৭ টাকা। কিন্তু এই ৮৭ টাকার মাল্টাতেই শুল্ক-কর দিতে হয় প্রায় ১০৭ টাকা। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত বিপুল শুল্ক-কর নেই।

২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ (কেজিতে প্রায় ১২ টাকা)। এরপর ধাপে ধাপে বেড়ে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে ২০২২ সালের মে মাসে ডলার-সংকট মোকাবিলায় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে তৎকালীন সরকার ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে।

এরপর তা কয়েক দফা বেড়ে বর্তমানে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে মাল্টার কার্যকর শুল্কহার মাত্র ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ (বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ২৩ গুণ কম) এবং প্রতিবেশী ভারতে তা ৩৩ শতাংশ।

উচ্চ শুল্কের কারণে মাল্টার আমদানি কমলেও সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টা থেকে রাজস্ব এসেছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, চার বছরে আমদানি কমলেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন তাজা ফলের শুল্ক-কর কমানোর জন্য আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়ে সুপারিশ করেছিল।

নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ডলার সংকট কাটাতে সাময়িকভাবে এই শুল্ক বাড়ানো হলেও এখন রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাই স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে মাল্টার শুল্ক-কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা উচিত। রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত ফলের চেয়ে বিলাসবহুল গাড়িতে শুল্ক কম হওয়াটা দেশের শুল্ককাঠামোর ভারসাম্যের ঘাটতিকেই নির্দেশ করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: