![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
আজ শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়া’ রিয়াদ এলাকার দিকে দুটি ড্রোন ছুড়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
জোটের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, খামিস মুশাইতের দিকে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। শহরটিতে একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ বলেছে, এসব হামলায় নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিন্দার মধ্যেই আবার এসব হামলা চালানো হলো।
হুতিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। তারা তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের ইয়েমেনের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। এ ছাড়া ট্যাংকারে হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং এসব তৎপরতার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হেজাম আল-আসাদ বলেন, ‘অভিযানের শক্তি, ব্যাপ্তি ও প্রভাব যতই হোক না কেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এটিকে পূর্ণ মাত্রার উত্তেজনার প্রস্তুতি হিসেবে একটি ছোট পরিসরের মহড়া হিসেবে দেখছে।’
জুলাইয়ে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয়। এরপর ইয়েমেনকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে।
এদিকে হুতি বাহিনী ইয়েমেনি বাহিনীর বিরুদ্ধে যে স্থল অভিযান চালাচ্ছে, তাতে দেশটিতে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে ইয়েমেনজুড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭০ হাজার শিশু।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের দূত জেরোম বনফোঁ গতকাল শুক্রবার বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাতও রয়েছে। এতে নারী, শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে মিত্রদেশগুলো। ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় রিয়াদকে কীভাবে সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। এর আগে হুতিদের ইয়েমেন থেকে নির্মূল না করা পর্যন্ত সেনাদের জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের কড়া নির্দেশ দেন সৌদি আরবের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি।
হুতিরা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবারও তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা মাঝপথেই ধ্বংস করেছে। এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও প্রধান তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল রিয়াদ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ বলেই গণ্য হবে। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের কৌশল নির্ধারণে গতকাল সৌদি আরব সফরে যান তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল সেলসুক বায়রাকতারোগলু। সেখানেই তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা আলোচনায় বসার কথা। তবে মক্কা চুক্তি তুরস্কের পার্লামেন্টে এখনো অনুমোদিত না হওয়ায় আঙ্কারার সামরিক সহায়তা আপাতত মূলত দ্বিপক্ষীয় ও কারিগরি সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ইয়ানবু রক্ষায় সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক দীর্ঘ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দরটির সুরক্ষায় সেনাসদস্য, রাডার ও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হলেও এই সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য কোনো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো নয়।