![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি বাস্তবায়নে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নতুন বিধিটি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেন বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলার।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলোর জোটের করা মামলায় এ রায় দেন বিচারক। তিনি বলেন, নীতিটি গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের যুক্তি ছিল দুর্বল।
ডিএইচএস জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে নতুন বিধির পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। তবে বিচারক সেলার বলেন, নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বিবেচনা করা এবং কম কঠোর বিকল্পগুলো পর্যালোচনার মতো আইনি দায়িত্ব পালন করেনি বিভাগটি।
সেলার বলেন, নতুন বিধিটি প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা একটি ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে। এতদিন বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা তাদের ‘বৈধ অবস্থানের মেয়াদ’ পর্যন্ত কার্যকর থাকত।
বিচারকের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক দশকে কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর ফলে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী গবেষণা, ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আরও নানা ধরনের সুফল এসেছে।
ডিএইচএস জুলাইয়ে যে নতুন বিধি গ্রহণ করে, তাতে বিদেশি শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়।
নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির আওতায় কাজের সুযোগ দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য আই ভিসার মেয়াদ, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে, সর্বোচ্চ ২৪০ দিনে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এরপর অবস্থান অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ‘এফ’ ভিসায় এবং আরও প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ‘জে’ ভিসায় রয়েছেন।
বিচারক সেলার উল্লেখ করেন, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
নতুন বিধি কার্যকর হলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে এবং শিক্ষার্থী ভর্তিও কমে যেতে পারে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর এর ক্ষতির প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
আদালতের আদেশের সমালোচনা করেছে ডিএইচএস। বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল বলেন, বিচারকের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ব্যাপক অপব্যবহার ঠেকানো কঠিন হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রতি সেমিস্টারে মাত্র একটি করে কোর্স নিয়ে কয়েক দশক দেশটিতে থেকে যেতে পারে।
অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠন প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের প্রধান মিরিয়াম ফেল্ডব্লুম বলেন, নতুন বিধি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর যে ক্ষতি হতো, আদালতের রায় তা স্বীকার করেছে।
মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আদালতের এই আদেশ দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাটি বহাল রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক মেধাবীদের আকর্ষণ, শিক্ষা দেওয়া ও ধরে রাখার সুযোগ অব্যাহত রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।