সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে নিউইয়র্ক সিটি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতি বাতিল করতে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহর ও কাউন্টি মিলে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১০৮ পৃষ্ঠার এই মামলার মূল লক্ষ্য হলো আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বিতর্কিত বিধিটির বাস্তবায়ন আটকে দেওয়া। এই আইনি পদক্ষেপে নিউইয়র্কের সঙ্গে একজোট হয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা ও ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’।
নতুন এই বিধি কার্যকর হলে, গ্রিন কার্ডের আবেদন বাছাইয়ের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা (পাবলিক বেনিফিট) গ্রহণের ইতিহাস আরও ব্যাপকভাবে যাচাই করতে পারবেন। শুধু তাই নয়; আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সচ্ছলতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতার মতো বিষয়গুলোও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে।

মেয়র জোহরান মামদানি এই বিধিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের অভিবাসী কমিউনিটি কখনোই সমাজের বোঝা নয়, বরং তাঁরাই নিউইয়র্ক ও এই দেশকে মহান করেছেন।” তাঁর আশঙ্কা, নতুন এই নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্রধারী অভিবাসীরাও ভয় থেকে অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সহায়তা নেওয়া বন্ধ করে দেবেন। এর খেসারত দিতে হবে পুরো নিউইয়র্কবাসীকে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমালঙ্ঘন করেছে। ঐতিহাসিকভাবে ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে বোঝানো হতো এমন ব্যক্তিকে, যিনি বেঁচে থাকার জন্য মূলত সরকারের নগদ অর্থ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন বিধিতে এই সংজ্ঞাকে অযৌক্তিকভাবে প্রসারিত করা হয়েছে বলে দাবি বাদীপক্ষের। নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভ ব্যাংকসও জানান, এই বিধি শত বছরের প্রতিষ্ঠিত আইনকে উপেক্ষা করেছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হন-কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যেই নতুন বিধিটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

একই দিনে নীতিটির বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে। এই মামলায় ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো যুক্ত আছেন। লেটিশিয়া জেমস বলেন, পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে কেবল সরকারি সহায়তা নেওয়ার কারণে বিতাড়নের (ডিপোর্ট) ভয় দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

নতুন এই বিধির কারণে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই চিকিৎসাসেবা (মেডিকেইড) বা ফুড স্ট্যাম্পের (স্ন্যাপ) মতো জরুরি সুবিধাগুলো নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কমিউনিটি নেতারা। তবে নীতি অনুযায়ী, সরকারি সুবিধা নিলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, বিষয়টি এমন নয়; বরং কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদনকারীর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করবেন।

নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, নিরাপদ ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তা পেতে মেয়রের দপ্তরের হটলাইন (১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫) চালু রয়েছে। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বললে নিজের ভাষাতেও সহায়তা পাওয়া যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: