সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যাদের হাত ধরে এলো ঐতিহাসিক জয়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২৬ বছরের কাঙ্ক্ষিত সেই জয়ের পেছনে রয়েছে কয়েকজন ক্রিকেটারের অসাধারণ পারফরম্যান্সের গল্প। ম্যাচের প্রথম দিন বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দেওয়া হাসান মাহমুদ, এরপর ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম, দুই ইনিংসে জ্বলে ওঠা মেহেদী হাসান মিরাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৮৪ রানের ইনিংস খেলা নাজমুল হোসেন শান্ত। মূলত তাদের পারফরম্যান্সে ভর করেই ডারউইনে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস।

হাসান মাহমুদ

প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তিনি।

শুধু প্রথম ইনিংসেই থেমে থাকেননি হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে নেন আরও ৩ উইকেট। অর্থাৎ দুই ইনিংসে ৯ উইকেট। অস্ট্রেলিয়াকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার পেছনে হাসানের এই পারফরম্যান্স ছিল অন্যতম বড় কারণ।
তানজিদ হাসান তামিম

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য শুরুটা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতিতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসে ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১০১ রান করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা।

তানজিদের শতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হয়ে থাকেনি। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রান তাড়া করতে নেমে ৫ রানেই আউট হন তানজিদ। তবে তার আগেই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে রেখেছিলেন তিনি।

মেহেদী হাসান মিরাজ

বাংলাদেশের জয়ে মিরাজের অবদানটা ছিল অন্যরকম। প্রথম ইনিংসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করে দলের বড় স্কোরে অবদান রাখেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস নামাতে বল হাতে হয়ে ওঠেন সবচেয়ে কার্যকর বোলার।

৩৩ দশমিক ১ ওভার বল করে ৬৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভেন স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে সাজঘরে ফেরান তিনি।

ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া যখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন মিরাজের স্পিনই তাদের বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থেকে দূরে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস।

নাজমুল হোসেন শান্ত

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অবদানটাও কম নয়। প্রথম ইনিংসে ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের শতকের পর বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন শান্ত।

তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। তানজিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়।

মুমিনুল ও সাদমান

চার মূল পারফর্মারের বাইরে ম্যাচের শেষ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৪৯ রান করা মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩০ রান করেন। অন্যদিকে সাদমান ইসলাম অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে।

তানজিদ দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর এই দুজনই আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তারা।

ডারউইনের এই জয় তাই শুধু একটি দলীয় সাফল্য নয়, এটি একাধিক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের সমন্বিত ফল। হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে শুরুতেই নাড়িয়ে দেয়। তানজিদ হাসান তামিমের শতক বাংলাদেশকে এনে দেয় বড় লিডের ভিত। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট ও বল দুই জায়গাতেই অবদান রাখেন। আর নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ইনিংস বাংলাদেশের স্কোরকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত সেই পারফরম্যান্সগুলোর ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: