![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ঝালকাঠি শহরের একটি তিনতলা ভবনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতেরা মলিনা রায় (৫০) নামের এক নারীকে হাত-পা বেঁধে মাথায় বস্তা পেঁচিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি এলাকার তপন হালদারের তিনতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় মলিনা রায় মেয়ে পূজা রায়কে নিয়ে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ভবনের বাসিন্দারা কৃত্তিপাশা–ভিমরুলী এলাকায় রথযাত্রায় অংশ নিতে যান। সে সময় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে শুধু মলিনা রায় বাসায় ছিলেন। রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসিন্দারা ফিরে এসে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন বাসার দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান।
মলিনার মেয়ে পূজা রায় বাসার দরজা খোলা এবং ঘরের ভেতরের আসবাব তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের ভেতরে ঢুকে তিনি তার মাকে হাত-পা বাঁধা ও মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হচ্ছে।
ভবনের মালিক তপন হালদার বলেন, সকালে রথযাত্রা উপলক্ষে আমরা সবাই কৃত্তিপাশায় গিয়েছিলাম। রাতে ফিরে এসে দেখি নিচতলার ভাড়াটিয়া, দ্বিতীয় তলায় আমার বাসা এবং তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়ার বাসার তালা ভাঙা। ঘরের ভেতরের সবকিছু তছনছ হয়ে আছে। পরে নিচতলার ভাড়াটিয়ার মেয়ে তাঁর মাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে আমরা সেখানে যাই।
তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পল্লবী বড়াল বলেন, ‘ফিরে এসে দেখি নিচতলায় একজনকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাসা ও বাড়িওয়ালার বাসা থেকে টাকাপয়সা ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে।’
চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে আছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।