![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
রয়টার্স লিখেছে, জন হিলির এই আকস্মিক পদত্যাগ স্টারমার প্রশাসনের ভেতরের বড় সংকটকে আবারও সামনে এনেছে।
তীব্র তহবিল সংকটের কারণে সামাজিক খাতের বাজেট সামাল দিয়ে কীভাবে সামরিক ব্যয় বাড়ানো যাবে, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এবং অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসের সঙ্গে জন হিলির আলোচনা চলছিল। বাজেট সংকটের কারণে যুক্তরাজ্যের বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা’ আটকে আছে।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে হিলি সরাসরি বলেন, “দেশকে রক্ষা করার জন্য যে তহবিল প্রয়োজন, তা দিতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”
হিলির পদত্যাগের পর দ্রুতই নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে ড্যান জারভিসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এর পরপরই প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অ্যাল কার্নসও পদত্যাগ করেন। কার্নস বলেন, বর্তমান পরিকল্পনাটি দেশের সামনে থাকা হুমকি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।
কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
পরপর দুইজনের পদত্যাগ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তার ‘দূরদর্শিতার অভাব’ রয়েছে–এমন অভিযোগ তুলে গত মাসেই পদত্যাগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।
এক সময়ের পরাশক্তি যুক্তরাজ্য বর্তমানে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত।
ফলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং আর্কটিক ও পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার।
মে মাসের শুরুতে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। এর জেরে দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পার্লামেন্ট সদস্য ইতোমধ্যে স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে।
নেটো শীর্ষ সম্মেলনের মাত্র এক মাস আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর চলে যাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্টারমারের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে।