![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ঈদের এক দিন আগে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ভোলাগামী পাঁচ শতাধিক যাত্রী। বুধবার সকালে ভোলার মেঘনা নদীতে আকস্মিক ঝড় ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘সাঙ্গু’।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট থেকে ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয় সি-ট্রাকটি।
নৌযানটি ইলিশা ঘাটের কাছে পৌঁছালে প্রবল ঢেউয়ের কারণে পন্টুনে ভিড়তে পারেনি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাঝনদীতে একটি ভার্জিং বয়ার সঙ্গে নোঙর করা হয় সি-ট্রাকটি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ঝড় ও ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে নৌযানটি।
এই সময় ভেতরে থাকা শিশু ও নারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী কান্নাকাটি করেন এবং ভিজে যান ঢেউয়ের পানিতে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করেন।
ঝড় কিছুটা কমে এলে সি-ট্রাকটি অবশেষে ইলিশা ঘাটে ভেড়ে। তীরে নামার পর অনেক যাত্রী মহান আল্লাহর দরবারে সিজদা দেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, “সাঙ্গু সি-ট্রাকটি ইলিশা লঞ্চঘাটের কাছাকাছি এসে ঝড়ের কবলে পড়ে। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আমরা ঘাট থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি।”
তিনি আরও জানান, ‘‘নৌযানটি নিরাপদ স্থানে বয়ার সঙ্গে নোঙর করে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত সব যাত্রী নিরাপদে ঘাটে পৌঁছান।’’
এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচরে অন্তত ১২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বহু এলাকায়।
স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন বলেন, ‘‘ঝড়ে ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, ফসল ও ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। ঈদের আগে এমন ক্ষতিতে পরিবারগুলো চরম কষ্টে পড়েছে।’’
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসছে এবং তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।