সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ভায়োলেন্স’ চাইলে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না, জুলাই অভ্যুত্থানে দেখিয়েছি: আসিফ মাহমুদ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলায় জড়িতদের শুক্রবার (২২ মে) রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স (সহিংসতা) বেছে নেন, তাহলে আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ার করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে। আমাদের রক্ত গরম এবং বয়স কম হলেও আমরা বুঝি যে কখন কী করতে হবে, কখন দেশ গড়ার দিকে কাজ করতে হবে। কিন্তু যদি সরকারি দল ভায়োলেন্স চায়, সেটাকেই একমাত্র রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা যে আমাদের থেকে বেশি কেউ পারবে না- সেটা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইউনাইটেড পিপল’স বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) ঢাকার দুই মহানগরের ২২৯ জন নেতা–কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে, কিন্তু তারা প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে মোকাবিলার একধরনের কৌশল নিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না।’

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দল বারবার সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দল এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ। এরপর একসঙ্গে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও বিরোধী দল জানাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল থেকে বারবার এই সদিচ্ছা দেখানো হলেও সরকারি দল ভায়োলেন্স চাচ্ছে।’

সংঘাতের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি এটা করতে চান, এই লড়াইটা কোনো রাজনৈতিক দল, নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা আদর্শের সঙ্গে হবে না; এই লড়াইটা হবে পুরো একটা প্রজন্মের সঙ্গে। এই প্রজন্মের সঙ্গে লড়াই করার ভুলটা শেখ হাসিনা করেছিল। আশা করি, এই ভুলটা তারেক রহমান করবে না। আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর যারা হামলা করেছে, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সবার পরিচয় এসেছে। আজকে রাতের মধ্যে তাদের সবাইকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি গ্রেপ্তার না করা হয়, আপনারা যদি ভায়োলেন্স বেছে নেন, আমাদেরকেও ভায়োলেন্স বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’

বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ করেন জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিকের নিরাপত্তা সংকট চরমভাবে বেড়েছে। আজকে আমাদের মা–বোনেরা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি বলে মনে হয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন না কিংবা করতে তাঁর মধ্যে একধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে থাকলে বাংলাদেশের জনগণ সামনের দিনে বাধ্য হবে এই সরকার ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসতে।’
‘দমনের চেষ্টা করলে তাদেরও খারাপভাবে পতন হবে’

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঝিনাইদহের সহযোদ্ধাদের সঙ্গে জুমার নামাজের পরে মতবিনিময় করবেন। তখন তাঁর ওপর ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ চালায়। সেখানে জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক থেকে শুরু করে সেখানকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের আহ্বায়কেরা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সাংবাদিক ভাইদের পিটিয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই হামলার কোনো ধরনের বিচার হয়নি।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে এনসিপি নেতা সারজিস বলেন, ‘আমাদের বোনকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে হত্যার পর গতকাল আমরা দেখলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন। আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু এই সহমর্মিতা যদি শুধু একদিনের ইস্যু ধামাচাপা দেওয়ার খেলা হয়, পরের ছয় মাসেও বিচারের কোনো দিশা খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে এই সহমর্মিতার কার্ড আগামীর বাংলাদেশের জনগণ আর মেনে নেবে না।’

বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আপনার ছাত্রদল–যুবদলের নেতা–কর্মীরা অভ্যুত্থানে আমাদের সহযোদ্ধা ছিল। তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা–সম্মান দেখাতে চাই। কিন্তু তারা যদি আগের মতো ছাত্রলীগ–যুবলীগের কায়দায় আবার সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করে, তাহলে তার চেয়ে খারাপভাবে তাদের পতন হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে অন্য কোনো দল–মতের ওপর দমন–পীড়ন আর মেনে নেওয়া হবে না।’

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। সঞ্চালক ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব শাহরিন সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: