সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইসি কঠোর না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে: সুজন

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘নমনীয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সম্প্রতি দেশের সাতটি বিভাগ ও বিভিন্ন জেলায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেছেন। সেই মতবিনিময়ের পর তিনি এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমার যতটুকু মনে পরে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য এক প্রার্থীর বিষয়ে বলেছেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। এটা কী কথা! তার মানে, এটা স্পষ্ট ওই ব্যক্তি ঋণখেলাপি ছিলেন। তাঁর প্রতি অনুকম্পা করে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বৈধ করে দিল। এরপরে তারা তাঁদের (প্রার্থীকে) অসিয়ত করলেন, তাঁরা যেন টাকা দিয়ে দেন। এটা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (নির্বাচন কমিশন)। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমার মনে হয়, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করা দরকার, এ ধরনের আচরণ তারা ভবিষ্যতে করবে কি না? এ ধরনের আচরণ যদি তারা ভবিষ্যতে করে, তাহলে ভবিষ্যতে কিন্তু আমাদের কপালে অনেক দুঃখ আছে।

সুজনের সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি এখনই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে এবং অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে এবারের নির্বাচনও বিতর্কিত হতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না হলে জনগণের প্রত্যাশিত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচারের ঝুঁকির বিষয়েও উদ্বেগ জানান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কোনো প্রার্থী মারা গেছেন বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন—এআই ব্যবহার করে এমন অপতথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট নিয়েও বিতর্কের সুযোগ আছে, যা পুরো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষ না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত অভিযোগে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রার্থীদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের তথ্য দেখে ‘অনেক প্রার্থী তথ্য গোপন করেছেন’ জনমনে এমন ধারণা জোরালো। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কমিশন কি বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছে? প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কি নমনীয় ছিল? এই ধারণাগুলোর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা থাকলেও তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে দিলীপ কুমার সরকার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব মনে করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। অর্থ বা অন্য কিছুর বিনিময়ে অথবা অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোট দেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-শুনে-বুঝে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত দল ও প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মানবতাবিরোধী, নারীবিদ্বেষী ও নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরা কারবারী, ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি, ভূমিদস্যু, পরিবেশ ধ্বংসকারী, কালোটাকার মালিক অর্থাৎ কোনো অসৎ, অযোগ্য ও গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে যেকোনোভাবে জয়লাভের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার কারণে এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে মনোনয়ন নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে দলের ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

দলের প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে সুজনের কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়কারী আরও বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের আরেকটি সুপারিশ ছিল, দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করা, যা থেকে দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কিন্তু আরপিওতে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে বিদ্যমান আরপিওতে প্যানেল বিবেচনায় নিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া বিধান আছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এ ধরনের কোনো তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এ ধরনের প্যানেল তৈরি করেনি এবং কোনো দলই প্যানেল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায়ও উদ্বেগ জানিয়ে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ‘অভ্যাসগত ঋণখেলাপি ও বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা’র সুপারিশ করেছিল। বিশেষত, ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে তাঁদের তামাদি ঋণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ছয় মাস আগে পরিপূর্ণভাবে শোধ করার বিধান করার সুপারিশ করেছিল। সুজন মনে করে, ঋণখেলাপিদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রস্তাবটি আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক ছিল।

নারী প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের কথা উল্লেখ করে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেবে, তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া নারীর সংখ্যা মাত্র ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে যে অঙ্গীকার করেছে, তা রক্ষা করেনি, বরং মনোনয়নের ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্যান্য বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, যা হতাশাব্যঞ্জক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: