![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস। মানুষ ১৯৯৫, ১৯৯৬ সালের কথা ভুলে যায়নি। অন্যের কাছে নিজের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেন। আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস, কৃতদাসের ইতিহাস। একদিকে পরাজিত শক্তি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি, অন্যদিকে নতুন একটি শক্তি। তারা পরাজিত শক্তির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত ১৭ বছর আমরা রাজপথে লড়েছি। বিরোধী দলও গণতন্ত্রের জন্য লড়েছে। কিন্তু এখন তাদের ভূমিকা বিস্ময়কর। উস্কানি দিয়ে কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ধরণের কার্ড দিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে দারিদ্র্যতা যে পরিমাণে হওয়ার কথা, তার চেয়ে ৫ শতাংশ কমে যাবে। আর আপনারা বলছেন জুলাই সনদ, গনভোট বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা তো মানবো না এটা বলিনি। তবে সেখানে কিছু নোট অব ডিসেন্ট আছে। আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান হবে, লংমার্চ করে নয়।
রাজপথ অবরোধের মধ্য দিয়ে আলোচনায় বসতে হবে, দাবি মেনে নিতে হবে, না হলে এক দফা দাবি আসবে বলে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন,কাকে ভয় দেখান? ১৭ বছর আন্দোলন, নিপীড়ন সহ্য করে বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা আন্দোলন করলে কি আমরা ঘরে বসে থাকব?
পোশাক শ্রমিকদের হঠাৎ রাস্তায় নামিয়ে ‘অস্থিরতা’ তৈরি করা হচ্ছে দাবি করে এই বিএনপি নেতা বলেন, তারেক রহমান একের পর এক দেশে গিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। দেশকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য তারেক রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটিকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত চলছে। এসব পদক্ষেপকে অগ্রাহ্য করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গাড়িতে আগুন, বাসে আগুন, পুলিশ বক্সে আগুন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রত্যেকটি ঘটনাস্থল থেকে যাদের আটক করা হচ্ছে, তাদের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। আজও ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ওই ব্যক্তি নিজেই ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের মধ্যে থেকে এসব কাজ করার কথা জানিয়েছেন।
তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী।
আওয়ামী লীগের সময়ে সরকারের বিচার বিভাগেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “টানা ৩৫ দিন আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আদালতে কোনো বিচারক সম্মান করে বসতে দিয়েছে, আবার কেউ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। কোথায় সেই রাজেশ চৌধুরী (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট)? জানি না কোথায় আছেন। হাসিনা কি আওয়ামী লীগ, তার চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার ছিল এরা।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক, উলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।