সর্বশেষ আপডেট : ১৪ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করে। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে দুই ঘণ্টা দশ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষ হলে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

পলাতক দুই প্রধান আসামি

মামলার প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক। তবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে দুই শীর্ষ আসামির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার সাজা প্রসঙ্গে সিদ্ধান্তের পুরো দায় ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয় প্রসিকিউশন।

অভিযোগগুলো কী ছিল

শেখ হাসিনা, কামাল এবং মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেগুলো হল—

  • ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য

  • আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ

  • রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যার নির্দেশ

  • রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ

  • আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ

এই পাঁচ অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিল।

রায়ের সময় আদালতে কারা ছিলেন

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এস.এইচ. তামিম। আরও উপস্থিত ছিলেন বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

সাক্ষ্য দিয়েছেন কারা

মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে স্বাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে ছিলেন প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা–মা, পরিবার-স্বজন এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেকে। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

মামলার অগ্রগতি

গত ১০ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি মামুন, যিনি অভ্যুত্থান দমন অভিযানের বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেন।

বড় প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত ছিল—এমন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক মামলা জমা পড়ে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালেই এসব অভিযোগের বিচার চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by:

fistinghd.netjosporn.netxfantazy.orgpornjoy.org