![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাজধানীর দিয়াবাড়ীতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রায় ৬০ জনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে, যখন বিমানটি উড্ডয়ন করে তার প্রথম সোলো ফ্লাইটে ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এতে সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
দুর্ঘটনার পর বিমান বাহিনীর তৌকির ইসলাম সাগরকে হেলিকপ্টার এমআই-১৭ এর মাধ্যমে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তার পালস পাওয়া গেলেও বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
দুর্ঘটনার সময় স্কুলে কোচিং ক্লাস চলছিল। শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, “ছুটির পরপরই বিমানটি স্কুলের একটি ভবনে ধাক্কা খায় এবং আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ছোটাছুটি শুরু হয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মীদের মধ্যে।”
ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করে। উদ্ধার তৎপরতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্যও অংশ নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে পাঠানো হয়।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই দুর্ঘটনাকে ‘জাতির জন্য গভীর বেদনার মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।