![]()


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র বুলবুল আহমদ (২২) খুনের ঘটনায় এবার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন কামরুল আহমদ (২৯) ও মো. হাসান। তারা হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিজেদের জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় তাদের দু’জনকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতের বিচারক মো. সুমন ভূঁইয়া বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আদালত সূত্র জানায়, এ দুই আসামি হত্যাকান্ডে নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দেয় এবং জানান, ক্যাম্পাসের গাজিকালু টিলায় বুলবুল ও তার বান্ধবীকে নির্জনে পেয়ে আক্রমন করে। এসময় বুলবুল ধস্তাধস্তি করলে তার বুকে, পিঠে, বাহুতে (ফনায়) ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। এরপর আবুল হোসেনকে (১৯) পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএমপির জালালাবাদ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ দেব বলেন, হত্যার ঘটনায় আসামিরা নিজেদের জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, এরআগে বুধবার(২৭ জুলাই) বিকাল পৌণে ৫ টার দিকে মামলার ওপর আসামি আবুল হোসেন একই আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ নিয়ে গ্রেফতারকৃত ৩ আসামি আদালতে বুলবুল হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, বুলবুল হত্যার ঘটনায় মোট ৫ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার ভোররাতে ৩ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন-ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বরিশাল জেলার বাঘাইল আটগল জারা গ্রামের জিন্নাত আলী মৃধার ছেলে ইব্রাহিম খলিল (২৭), সিলেট সদরের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন টিলারগাঁওয়ের লিলু মিয়ার ছেলে শরিফ (১৮) ও একই এলাকার আনিছ আলীর ছেলে আবুল হোসেন (১৯)।
তাদের মধ্যে আবুল হোসেন গতরাতে পুলিশের কাছে হত্যার বর্ণনা দেয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত টিলারগাও এলাকার গোলাব আহমদের ছেলে কামরুল আহমদ (২৯) ও একই এলাকার মৃত তছির আলীর ছেলে মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া পূর্বে আটককৃত শরীফ ও ইব্রাহিমের হত্যায় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেবেন বলে জানান এসএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ।
তিনি বলেন, বুলবুল হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদি হয়ে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। তাতে বলা হয়, ছিনতাই করতে গিয়ে বুলবুলকে খুন করা হয়। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী মর্জিয়া আক্তার ঊর্মি নির্দোষ।
এরআগে গত সোমবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে গাজীকালুর টিলায় বান্ধবীসহ বেড়াতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন হন শাবির লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদ (২২)।
নিহত বুলবুল নরসিংদী সদরের নন্দীপাড়া গ্রামের ওয়াব মিয়ার ছেলে।তিনি শাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন।