![]()


স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এবারও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ নিশারুল আরিফ মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনা ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) পুলিশ সুপার পদোন্নতি প্রাপ্ত জনাব বি,এম, আশরাফ উল্যাহ তাহের এর তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক টিম সিলেট।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিসের) নায়েক ও মানবিক টিম সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ সফি আহমদ পিপিএম। বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ, নগদ অর্থ, কাপড় ও মেডিকেল ক্যাম্পেইন এর সাথে ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে প্রতিদিন।
বন্যার শুরুতে সিলেটের বন্যার্তদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিলে সংগঠনের উদ্যোগে এস এমপির ওয়াটার ট্যাঙ্কার দিয়ে নিয়মিত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হয়। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।
বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা উপদ্রুত এলাকাগুলোর মানুষের মধ্যে নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ওই এলাকায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া বন্যার কারণে অনেকেই ঘরে রান্না করতে না পারায় তাদের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৭মে থেকে সিলেটের কদমতলীস্থ বাঁধের মুখ, শাহজালাল উপশহরের এ, ই, সি, জে, জি, এইচ ব্লক, লামা ঘাসিটুলা, ইউসেপ ঘাসিটুলা টেকনিক্যাল স্কুল, কলাপাড়া, কামালগড়, মাছুমপুর, ছড়ারপাড়, বেতেরবাজার,সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জৈন্তাপুরের বদ্দনা, সেনগ্রাম প্রাথমিক কাজ শুরু করলে পরবর্তী গুটা সিলেট বিভাগের প্রতিটি থানার বিভিন্ন গ্রামে সহায়তা নিয়ে পৌছে যায় মানবিক টিম।
ওই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত নগরীতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে।ও এক লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় তা খুব বেশি না হলেও মানবিক টিমের সদস্যরা তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়েই মানুষকে সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে তারা ৫ হাজার লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি দিয়েছেন বন্যার্তদের।
মানবিক টিম সিলেট’র মাধ্যমে এখন পযর্ন্ত যেসকল এলাকায় বন্যার্তদের সহায়তার দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার, জালালাবাদে থানা, হাটকুলা, দক্ষিণ সুরমা থানা, মোগলাবাজার থানা, এয়ারপোর্ট থানা, সিলেট সদর, গোয়ালাবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা, সুনামগঞ্জ সদর, শাল্লা থানা, ছাতক থানা, দুয়ারাবাজার থানা, মধ্যনগর থানা পাগলা এলাকা, জামালপুর ইত্যাদি এলাকয়া প্রায় ৩ হাজার প্যাকেট শুকন খাবার বিতরণ কারা হয়।
ইতিমধ্যে পানি কমে গেলে চাল, ডাল, তেল, আলু, মসলাগুঁড়া, লবন, সাবান, কাপড়, ঔষধ ইত্যাদি ১৮ শত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গৃহ মেরামতের জন্য নগদ অর্থ বিতরণ অব্যাহত আছে। গৃহনির্মান এর জন্য মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসোসিয়েশন টরন্টটো অন্টারিয় কানাডা, আব্দুল আল মাহবুব, মহিবুর রহমান খান সহ প্রবাসিদের সহায়তায় দুই লক্ষ পঞ্চাচ হাজার নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যার্থদের মধ্যে এক হাজার কেজি কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
মানবিক টিম সিলেট’র তত্বাবধানে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে কুলাউড়া,জুড়ী, বড়লেখা উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য বিনামূল্যের কাপড়ের কয়েকটি বুথ খোলা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিসের নায়েক ও মানবিক টিম সিলেট’র প্রধান সমন্বয়ক মো.সফি আহমদ পিপিএম বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমরা বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। বন্যার্তরা সাহায্যের অপেক্ষায়। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছি। তবে এরকম আরও অনেক টিম প্রয়োজন।
প্রবাসীদের ও বৃত্তবানদের সহযোগিতায় আমরা আমাদের কাজ চালাতে পারছি। আমরা তাদের জন্য কাজ করি যাদের প্রয়োজন।
তিনি তাদের কাজে যারা নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করছেন, সমর্থন দিচ্ছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।