সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে কিনব্রিজ এলাকায় যত্রতত্র ট্রাক পার্কিং, ভোগান্তিতে মানুষ

সন্ধ্যা নামতেই সিলেট নগরের কিনব্রিজ এলাকায় ঘুরতে যান বিনোদনপ্রেমী মানুষেরা। বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষেরাও সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমান কিনব্রিজের নিচের এলাকাটিতে। অথচ সেখানকার সড়কটির দুই পাশ দখল করে রাখা হচ্ছে ট্রাক। দেখে মনে হয় যেন ট্রাকস্ট্যান্ড।

নগরের ব্যস্ততম পাইকারি বাজার কালীঘাট, মহাজনপট্টি, লালদীঘির পাড় ও হকার মার্কেটের যাতায়াতের অন্যতম সড়কটির দুই পাশ দখল করে ট্রাকস্ট্যান্ড গড়ে তোলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘুরতে আসা মানুষেরা। সেই সঙ্গে পাইকারি বাজারে মালামাল নিয়ে যাওয়া-আসার পথে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

কিনব্রিজ এলাকায় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি, সারদা হল ও সার্কিট হাউজের অবস্থান। এ ছাড়া ব্রিজের প্রায় ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে কোতোয়ালি থানা, বন বিভাগের কার্যালয়। শনিবার রাতে ও রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ত ও জরুরি সেবা দেওয়ার এ এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাকস্ট্যান্ড। এ ছাড়া কিনব্রিজের অন্য পাশে রাখা হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন যানবাহন এবং সিটি করপোরেশন পরিচালিত টাউন বাস। এতে যানবাহন চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটিতে বাধছে যানজট।

শনিবার রাতে কিনব্রিজ এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন তানিম হোসেন। সদ্য প্রবাস থেকে আসা তানিম বলেন, নগরের অভ্যন্তরে রেস্তোরাঁ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার জায়গা নেই। এ জন্য সুরমা নদীর পাড়ে সুন্দর পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু এখানে আসার পর গাড়ি রাখার জায়গা পাননি তিনি। ট্রাকের যন্ত্রণায় সুরমাপাড়ে যাওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ওই এলাকায় ঘুরতে যাওয়া নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে তানিমের বন্ধু রুবেল ইসলামেরও। তিনি বলেন, কদিন আগে কিনব্রিজ এলাকায় এসে ট্রাকচালকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে হয়েছিল। এর পর থেকে ওই এলাকায় আসা ছেড়ে দেন। এখন বন্ধুদের সঙ্গে আবার এসে দেখেন পরিবেশ বদলায়নি।

কিনব্রিজ এলাকায় সারি বেঁধে ট্রাক রাখা হলেও আজ রোবাবর সকালে কোনো চালককে পাওয়া যায়নি। শনিবার রাতে সেখানে সাব্বির হোসেন নামের এক চালককে ট্রাক রাখতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হলেও সেটি শহরের বাইরে। সেখানে ট্রাক রাখা হলে ট্রিপ পাওয়া যায় না। কিনব্রিজ এলাকার পাশেই পাইকারি ও খুচরা বাজার বেশি থাকায় গ্রাহক বেশি পাওয়া যায়। যানজট সৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের অভ্যন্তরে তাঁদের জন্য স্ট্যান্ড দেওয়া হোক।

মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ড থাকলেও কিনব্রিজ এলাকাটিতে অবৈধভাবে যত্রতত্র ট্রাক রাখা হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি মানুষ সুরমা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে ট্রাকমালিক–শ্রমিকদের একাধিকার বলা হলেও কাজে আসছে না। তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, খোদ সিটি করপোরেশন ওই এলাকায় নিজেদের বিভিন্ন যানবাহন সড়কের ওপরই রেখে দেন। ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, কিনব্রিজ এলাকায় ট্রাক না রাখতে আগেও মালিক ও শ্রমিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কিছু যানবাহন কিনব্রিজ এলাকায় রাখা হয়। সিটি করপোরেশনের গ্যারেজ না থাকায় এমনটি করতে হচ্ছে। তবে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় কিছু জায়গা সিটি করপোরেশনের যানবাহন রাখার জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেটির নির্মাণকাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে। আপাতত ট্রাকস্ট্যান্ডের একটি অংশে সিটি করপোরেশনের যানবাহন রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। সৌজন্যে: প্রথম আলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: