সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা

ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে দেশের দুই নদীর ৫ পয়েন্টের পানি আজ বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। গতকাল তিন নদীর ৪ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার সবগুলো উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়ক ডুবে যাওয়ায় উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, অনেক সরকারি কার্যালয়েও ঢুকেছে বন্যার পানি।

এ দিকে সুরমা নদীর তীর উপচে পানি ঢুকে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে সিলেট নগরীর বেশ কিছু এলাকা। সুরমার তীরঘেঁষা শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, ছড়ারপাড়, কালিঘাট, তালতলা, কাজিরবাজার, শেখঘাট, লালাদিঘির পাড় এলাকার প্রায় সব বাসার নিচতলায় এখন পানি।

বন্যার পানিতে শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। নগরীতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে। নগরীর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খোলা হয়েছে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র।

মঙ্গলবার নগরীর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। তারা জানান, নগরীতে এভাবে বন্যার পানি সচরাচর ঢুকতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে নগরীর অনেক এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। এরপর প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এবারের মতো সুরমা উপচে নগরী বন্যাকবলিত হয়নি।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানায়, সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভাসহ সিলেটের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়ছে। অনেক জায়গায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জেলার বাকি উপজেলাগুলোরও নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।

সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, তেররতন, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর, তালতলা, শেখঘাট, লালাদিঘির পাড়, জামতলা এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথগুলো বন্যার পানিতে ডুবে আছে। সোমবার রাতেই অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। এ অবস্থায় অনেকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। বাসার আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে।

শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা সেলিম আহমদ জানান, তিনি পরিবার নিয়ে একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় থাকেন। সোমবার রাতে তার বাসায় পানি ঢুকতে শুরু করে। মঙ্গলবার সকালে কোমর সমান পানিতে থই থই করছে পুরো বাসা। স্ত্রী-সন্তানদের অন্যত্র পাঠিয়ে তিনি বাসার আসবাবপত্র রক্ষার চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, ফ্রিজসহ অনেক মূল্যবান জিনিস ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা কনিকা দাস জানান, সোমবার রাত থেকেই পানিবন্দী অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। মঙ্গলবার পানি আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে তাদের দিন কাটছে।

কালিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া জানান, পানি ঢুকে তার দোকানের চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলুসহ অনেক পণ্য নষ্ট হয়েছে। তার দোকানে মঙ্গলবার বিকেলেও ছিল হাঁটুসমান পানি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, জেলার বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট নগরীর বন্যা আক্রান্ত মানুষের জন্য ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো- ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিরাবাজারস্থ কিশোরী মোহন বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চালিবন্দর রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় ও চালিবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাছিমপুরস্থ আবদুল হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুরহান উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহজালাল উপশহরস্থ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাজাঙ্গালস্থ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাজিরবাজার স্কুল, মনিপুরি রাজবাড়ি আশ্রয়কেন্দ্র ও মাছুদিঘি আশ্রয়কেন্দ্র, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা স্কুল, ইউনিসেফ স্কুল, কানিশাইল স্কুল, জালালাবাদ স্কুল, বেতের বাজার কাউন্সিলর কার্যালয়ের ৪তলা ভবন এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। জেলার সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ ফসলি জমি। পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষিরা। পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন সুরমা নদী তীরবর্তী সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ অন্তত ১০ ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ।

আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারতের আসাম, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা থাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে মাঝারি ধরনের বন্যা সৃষ্টির হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমীর হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। তিন বিগা জমি চাষ করছিলাম। একটা ধানও কাটতে পারিনি। হঠাৎ পানি এসে আমার সব নিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌলী মো. সামছুদ্দোহা জানিয়েছেন, ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের সুরমাসহ সকল নদনদীর পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: