![]()


সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শহরের বাগবাড়িস্থ ছোটমনি নিবাসে মাত্র ২ মাস ১১ দিন বয়সী একটি এতিম শি’শুকে আছাড় মে’রে এবং বালিশচাপা দিয়ে হ’ত্যা করা হয়েছে। নি’হত শি’শুটির নাম নাবিল আহম’দ। গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে শি’শুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আয়ার হাতেই নি’র্মমভাবে খু’ন হয় অবুঝ শি’শুটি। হ’ত্যার পর ঘটনাটি গো’পন রাখে ছোটমনি নিবাসের দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন কর্মক’র্তা ও কর্মচারীরা।
ঘটনার ২০ দিন পর বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে কোতোয়ালি থা’না পু’লিশ অ’ভিযান চালিয়ে ঘা’তক আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আ’ট’ক করেছে। তিনি মফিজুল ইস’লাম সরকারের মে’য়ে।
পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর বাগবাড়িস্থ ছোটমনি নিবাসে মাত্র ২ মাস ১১ দিন বয়সী অবুঝ শি’শু নাবিল আহম’দ কা’ন্নাকাটি শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানকার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা।
একপর্যায়ে তিনি শি’শু নাবিলকে মা’থার উপর তুলে সজো’রে বিছানায় আছাড় দেয়। বিছানার স্টিলের রেলিঙয়ে বাড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় শি’শুটি। প্রচন্ড আ’ঘাতের ফলে চিরদিনের জন্য থেমে যায় নাবিলের কা’ন্না।
তারপরও থামেনি ভ’য়ংকর সুলতানার নি’র্যা’তন। শি’শু নাবিলের মুখের উপরে বালিশ চেপে ধরে মৃ’ত্যু নিশ্চিত করেন পাষণ্ড আয়া সুলতানা। এরপর প্রমাণাদি লোপাটের চেষ্টা করেন তিনিসহ ছোটমনি নিবাসের অন্যান্য কর্মক’র্তারা।
ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে ২৪ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থা’নায় একটি অ’পমৃ’ত্যু মা’মলা (নম্বর-৪৫) দায়ের করা হয়। ময়নাত’দন্তের পর ইস’লামিক রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয় শি’শুটির।
অ’পমৃ’ত্যু মা’মলার ত’দন্তভা’র পান কোতোয়ালি থা’নার এসআই মাহবুব। ঘটনার পর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ খোলেননি ছোটমনি নিবাসের দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন কর্মকতা, আয়া কিংবা অন্য কেউ।
১২ আগস্ট, বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থা’না পরিদর্শনে আসেন সিলেট মেট্রোপলিটন পু’লিশের (এসএমপি) উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) আজবাহার আলী শেখ। এসময় তার দৃষ্টিগোচর হয় অ’পমৃ’ত্যু মা’মলা’টি। বিষয়টি স’ন্দেহ’জনক মনে হওয়ায় রাত ১১টায় থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ এবং মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা এসআই মাহবুবসহ পু’লিশ ফোর্স নিয়ে বাগবাড়ির ছোটমনি নিবাসে ছুটে যান ডিসি আজবাহার আলী শেখ।
সেখানে লাগানো সিসি ক্যামেরায় শি’শু নাবিল খু’নের পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়েছিলো। ক্যামেরায় ধারণ হয় সুলতানা কিভাবে শি’শুটিকে আছাড় মে’রে ও বালিশ চাপা দিয়ে হ’ত্যা করেন, সেই দৃশ্য। সিসি ফুটেজ দেখে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে তাৎক্ষণিক আ’ট’ক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থা’নায় নিয়ে আসে পু’লিশ।
পু’লিশ সূত্র জানিয়েছে, ত’দন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট যে বা যারা রয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ম’র্মা’ন্তিক হ’ত্যাকা’ণ্ডের সাথে জ’ড়িত এবং যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পু’লিশ।