![]()


স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারে জায়গাজমি ও আর্থিক লেনদেনের জেরে এক প্রবাসীর উপর হামলা করে বসতঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৫ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কাটারাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সাইপ্রাস প্রবাসী রুহুল আমিন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটারাই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আব্দুল কাদির দেশের বাইরে থাকায় তার ভগ্নিপতি বাদশা মিয়া তার গ্রামের জায়গাজমি দেখাশুনা করতেন। বাদশা মিয়ার পরামর্শে গ্রামের বাড়িতে জায়গাজমি কিনার জন্য আব্দুল কাদির কয়েকলক্ষ টাকা দেন। সম্প্রতি তার সাইপ্রাস প্রবাসী একমাত্র ছেলে রুহুল আমিন বাড়িতে এসে জায়গাজমির দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তা বুঝিয়ে দিতে বাদশা মিয়াকে বলেন। কিন্তু জমি বুঝিয়ে দেয়ার সময় দেখা যায় আব্দুল কাদিরের নামে জমি না কিনে বেশ কিছু জমি বাদশা মিয়া নিজের নামে কিনে নিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে এলাকায় বেশকটি শালিস বৈঠকও হয়। কিন্তু বিষয়টির সমাধান হয়নি।

৫ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে রুহুল আমিনের সাথে স্থানীয় বাজারে তার ফুফা বাদশা মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এ খবর পেয়ে বাদশা মিয়ার চাচাতো ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য হাজী আহমদ উদ্দিনের নেতৃত্বে দলীয় সন্ত্রাসীরা রুহুল আমিনের উপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলার পর উত্তেজিত প্রতিপক্ষ তার বসতঘরে ভাঙচুর চালায় ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ পাশের গোয়ালঘর পোড়ে ৭/৮টি গবাদিপশু মারা গেছে। ঘরে অগ্নিসংযোগের আগে পরিবারের নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলাকারীরা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী লোক হওয়ায় অন্যদিকে আব্দুল কাদির বিএনপির অনুসারি হওয়ায় পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, রুহুল আমিন শাহজালাল ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট মৌলভীবাজার, লতিফিয়া স্টুডেন্ট ফোরাম মৌলভীবাজার, কাটারাই সমাজকল্যাণ সংস্থা ও সিলসিলা ইসলামিক সোসাইটি সাইপ্রাসসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সামজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।