![]()



সিলেটের ওসমানীনগরের স্কুল শিক্ষক তপতী রাণী দে লাভলীর বিবস্ত্র গলাকা’টা লা’শ ও একই গৃহের কাঠের উপরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা গৃহকর্মী গৌর চাঁদ ওরপে গৌরাঙ্গ সরকারের লা’শ উ’দ্ধারের ঘটনার চার দিন অ’তিবাহিত হলেও জট খোলেনি চাঞ্চল্যকর এই হ’ত্যাকা’ন্ডের। সোমবার স্কুল শিক্ষিকার পুত্র তন্ময় দে বিপ্লবের দায়েরকৃত অ’ভিযোগের ভিত্তিত্বে থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা রুজু করা হলেও মা’মলায় শিক্ষিকার হ’ত্যাকারী হিসাবে শুধুমাত্র নি’হত গৃহকর্মী গৌরাঙ্গকে অ’ভিযু’ক্ত করা নিয়ে র’হস্যের সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
এদিকে শিক্ষিকা খু’নের দায়ে অ’ভিযু’ক্ত গৃহকর্মীর লা’শ উ’দ্ধার নিয়ে থা’নায় অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলা রুজু হলেও গৃহকর্মীর পরিবারের লোকজন দাবি করছে, নি’হত শিক্ষিকার পারিবারিক কলহের জের ধরে পরিক’ল্পিত ভাবে শিক্ষিকাকে খু’নের পর গৌরাঙ্গকেও হ’ত্যা করে জোড়া খু’নের ঘটনাকে চাপা দিতে গৃহকর্মীকে ঝুলিয়ে রেখেছিল ঘা’তকরা। মূল ঘটনাকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করার চেষ্টা নি’হত গৃহকর্মীকেই এখন বলির পাঠা বানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক হ’ত্যা মা’মলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন নি’হত গৃহকর্মীর বড় ভাই মোর চাঁদ সরকার।
তবে পু’লিশের উর্ধ্ধতন কর্মক’র্তারা বলছেন, শিক্ষিকার পরিবারের অ’ভিযোগ ও প্রাথমিক ত’দন্ত সা’পেক্ষে শিক্ষিকা খু’নের দায়ে গৃহকর্মীকে অ’ভিযু’ক্ত ও গৃহকর্মীর লা’শ উ’দ্ধারের ঘটনায় অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলা নেয়া হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ত’দন্ত চলমান রয়েছে। ত’দন্তকালে অন্য কোনো সূত্র পাওয়া গেলে সেটা পর্যালোচনাক্রমে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলার বাদি নি’হত গৃহকর্মীর ভাই গবিন্দ সরকার বলেন, আম’রা মাতৃহারা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। পারিবারিক টানপুরনের কারনে আমা’র ভাই শিক্ষিকার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে অন্ধ বাবার আহার যুগাতো। পরবর্তীতে আমি নিজেও নি’হত শিক্ষিকার মে’য়ে তন্নীর সিলেট শহরের বাসায় কাজ করছি। শিক্ষিকার স্বামি-স্ত্রী’ ও পুত্রের মধ্যে পারিবারিক কলহের বিষয়টি দীর্ঘ দিনের। শিক্ষিকার মে’য়ের বাসায় কাজে থাকার সুবাধে বিষয়টি পূর্ব থেকেই অবগত রয়েছি।
শিক্ষিকার পারিবারিক কলহের জের ধরে পরিক’ল্পিত ভাবে খু’নের পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে আমা’র সহ’জ-সরল ভাইকে হ’ত্যার পর ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে রেখেছে ঘা’তকরা। খু’নের মূল হোতাদের গ্রে’প্তারের চাপ কমানোর জন্য থা’না পু’লিশ ঘটনার দিনই লা’শ ময়না ত’দন্তে পাঠানোর কথা বলে কৌশলে আমা’র স্বাক্ষর নিয়ে আমা’র ভাইয়ের লা’শ উ’দ্ধারের ঘটনায় তড়িগড়ি করে অ’পমৃ’ত্যুর মা’মলা রুজু করেছে। এবং একই ঘটনার দুই দিন পর আবার আমা’র মৃ’ত ভাইকে অ’ভিযু’ক্ত করে থা’নায় খু’নের মা’মলা রেকর্ড করা হয়েছে। ডা: বিজয় ভুষনের পারিবারিক কলহের বিষয়টি নিরপক্ষভাবে খতিয়ে দেখলে ঘটনার আসল র’হস্য বের হবে। শিক্ষিকাসহ ভাই খু’নের মূল ঘা’তকদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে প্রশাসনের উধ্ধর্তন মহলের হস্তক্ষেপ কা’মনা করেন তিনি।
এই বিষয়ে হ’ত্যা মা’মলার বাদি নি’হত শিক্ষিকার পুত্র তন্ময় দে বিপ্লবের বক্তব্য জানতে গত দুই দিন ধরে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে তিনি কোনো ফোন রিসিভ করছেনা।তবে লা’শ উ’দ্ধারের পরের দিন রবিবার সাংবাদিকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মায়ের মৃ’ত্যু নিয়ে তন্ময় দে বিপ্লবের বক্তব্য ছিল, সম্প্রতি কাজের ছে’লে গৌরাঙ্গ প্রায়ই নানা অযুহাতে তার মা’সহ পরিবারের সদস্যদের সাথে তর্কে লিপ্ত হত। বিপ্লবের দাবি ঘটনার দিন তিনি এবং তার বাবা বিজয় ভুষন বাড়িতে না থাকার সুবাধে গৌরাঙ্গ তার মাকে খু’ন করে সে নিজে আত্মহ’ত্যা করেছে। অন্য দিকে অ’পর একটি সূত্র জানিয়েছে গত দুই মাস ধরে গৃহক’র্তা ডা: বিজয় ভুষন পরিবারের সাথে না থেকে পৃথক বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
দশঘর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুবেল মিয়া বলেন, গৌরাঙ্গের পরিবারটি হতদ্ররিদ্র তার মা ও বেঁচে নেই বাবাও অন্ধ।পাশ্ববর্তী বাসিন্দা হিসাবে ছোটবেলা থেকে গৌরাঙ্গসহ তার ভাইদের আমি দেখাশুনা করছি। এছাড়া ডা: বিষয় ভুষন আমাদের এলাকায় থাকা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্ম’রত থাকার সুবাধে আমা’র সাথে আলোচানার মাধ্যমেই পারিবারিক কাজের জন্য গৌরাঙ্গ নিয়েছিলেন। সেই থেকে গৌরাঙ্গের যেকোনো বিষয়ে গৃহক’র্তা বিজয় ভুষন আমা’র সাথে আলোচনা করতেন।গৌরাঙ্গ খুবই শান্ত সৃষ্ট স্বভাবের ছে’লে। সে খু’ন করে আত্মহ’ত্যা করেছে এটা মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া গত দুই মাস ধরে পারাবিারিক অ’সুবিধা দেখিয়ে ডা: বিজয় তাঁর কর্ম’রত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসছেন না এর মধ্যেই তাঁর স্ত্রী’ খু’নের ঘটনা। সুষ্ট ত’দন্তের মাধ্যমে হ’ত্যাকা’ন্ডের ঘটনার থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসা সম্ভব বলে মনে করেন ওই জনপ্রতিনিধি।
ওসমানীনগর থা’নার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক বলেন, শিক্ষিকার ছে’লের দায়েরকৃত অ’ভিযোগের ভিত্তিতে থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা রুজু করা হয়েছে। নি’হত গৃহকর্মীর পরিবারের অ’ভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সার্বিক বিষয়গুলো পু’লিশ ত’দন্তে রয়েছে। ময়না ত’দন্তের রির্পোটসহ ত’দন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
প্রসঙ্গত: উপজে’লার দয়ামীর ইউনিয়নের শোয়ার গাঁও গ্রামের ডা: বিজয় ভুষন দে‘র বাড়ির বসত ঘরের মেঝে থেকে তারই স্ত্রী’র স্কুল শিক্ষিকা তাপত রানী দে বিবস্ত্র গলাকা’টা লা’শ এবং একই ঘরের কাঠের উপর থেকে গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ সরকারের ঝুলন্ত লা’শ শনিবার দিনগত রাত ১২টায় উ’দ্ধার করে থা’না পু’লিশ। গৃহকর্মীর বাড়ি বিশ্বনাথ উপজে’লার দশঘর ইউনিয়নের লহরী গ্রামে। বিগত প্রায় ৬ বছর থেকে ওই শিক্ষিকার পরিবারে গৃহকর্মীর কাজ করছেন। রবিবার ময়না ত’দন্ত শেষে লা’শ নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পু’লিশ জানিয়েছে-তপতীর মৃ’তদেহের পাশ থেকে একটি ছুরা ও একটি বটি উ’দ্ধার করা হয়েছে হ’ত্যাকা’ন্ড এ দু’টি অ’স্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তপতীর ঘাড়ের ডান দিকে একটি কুপ ও ঘাড়ের পিছনে ছু’রির আ’ঘাত রয়েছে।সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এ হ’ত্যাকা’ন্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে পু’লিশ। ময়না ত’দন্ত শেয়ে রবিবার রাতে নিজ নিজ বাড়িতে শিক্ষিকা ও গৃহকর্মীর অন্তুষ্টিক্রিয়ার সম্পন্ন হয়। তপতী ও বিজয় দম্পত্তির এক ছে’লে ও তাপসী দে তন্নী নামের এক মে’য়ে রয়েছে। স্বামীসহ ছে’লে- মে’য়ে ও মে’য়ের স্বামী পেশায় চিকিৎসক বলে জানা গেছে।