সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৯৯৯-এ স্ত্রীর ফোন, ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তাকে নেওয়া হলো থানায়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

রাজশাহী নগরে একটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের একটি দল এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাট থেকে দুজনকে বের করা হয়। ফৌজদারি অপরাধের কোনো অভিযোগ না থাকায় পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত আছেন। একসময় তিনি রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। ৯৯৯–এ ফোন করেছিলেন তার স্ত্রী আন্নি আক্তার।

আন্নি আক্তারের দাবি, তার স্বামী ও ওই নারীকে রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে আগেও দুবার দেখেছেন। তখন সংসার টিকিয়ে রাখার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। বিষয়টি নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং ৯ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে তিনি লিখিত অভিযোগও করেছেন। এরপরও মাহবুব আলম ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি।

সাংবাদিকদের আন্নি আক্তার বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন তার স্বামী নাদের হাজীর মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে গেছেন। সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তিনি স্বজনদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে বের করে আনা হয়। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব আলম। সঙ্গে থাকা নারীকে তিনি স্ত্রী বলে দাবি করেন। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে নিজের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করলেও মাহবুব আলম জানান, তাকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। এ–সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে যে নারীকে স্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে কবে বিয়ে করেছেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি মাহবুব আলম। ওই নারীও কোনো কথা বললেননি, বরং নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন।

আন্নি আক্তার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় তার স্বামী একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের ঘটনায় জড়িয়েছেন। চলতি বছর মাহবুব আলম তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি এসব বিষয়ে জানতে পারেন। নগরের যে ফ্ল্যাটটিতে নারীসহ মাহবুব আলম ছিলেন, সেটি তার পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া বলে জানা গেছে। সেখানে তার মেয়ে ও জামাতা থাকেন।

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে আছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলমের বিষয়ে জানতে চাইলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান।

তিনি জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে মাহবুব আলম ও তার সঙ্গে একজন নারীকে দেখতে পান। সেখানে হট্টগোল শুরু হলে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে মাহবুব ও ওই নারী নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করেন। আন্নি আক্তার নামে অপর নারীকে তিনি কয়েক দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে জানান মাহবুব।

গাজিউর রহমান বলেন, কেউ তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ না করায় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আন্নি আক্তার মাহবুব, তাঁর পালিত কন্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগে আন্নি আক্তার দাবি করেন, গত ১ মে মাহবুব আলমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরে স্বামীর আগের বিয়ের বিষয়ে জানতে পারেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে বিষয়টি মেনে নেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাহবুব আলমের আগের স্ত্রীর করা অভিযোগ মীমাংসার জন্য বিভিন্ন সময় আন্নি আক্তার মোট ১৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। ২৪ আগস্ট মাহবুব আলমের পালিত মেয়ে ও জামাইয়ের মাধ্যমে আন্নির বিরুদ্ধে চুরির মামলা করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই দিন রাতে তাকে চায়ের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। পরে আন্নি আক্তার অসুস্থ হয়ে ২৫ থেকে ৩০ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অভিযোগে আন্নি আক্তার আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়েছেন মাহবুব আলম। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: