![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
সিরাজগঞ্জে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগ্রাসী হয়ে উঠছে যমুনা নদী। এতে নদীর পূর্বপাড়ের কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের দুটি ইউনিয়নে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন।
এ পর্যন্ত এসব এলাকার প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরের মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, চরগিরিশ চরে একসময় প্রায় পাঁচ থেকে ছয়শত পরিবারের বসবাস ছিল। নদী ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ত্রিশটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। আরও শতাধিক পরিবার যেকোনো সময় ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো এক বাসিন্দা জানান, “আমাদের বাবাদাদার ভিটা ছিল এই চরে। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব নদীতে চলে গেছে। এখন অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছি।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “চোখের সামনে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব—সব মিলিয়ে বড় চিন্তায় আছি।”
এক ভুক্তভোগী নারী জানান, “আমরা গরিব মানুষ। যা ছিল সব নদী নিয়ে গেছে। এখন যদি সরকার সাহায্য না করে, তাহলে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।”
অন্য এক বাসিন্দা জানান, নদী শুধু ঘরবাড়ি নয়, তাদের স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে। তারা এখন নিজ দেশেই এক ধরনের উদ্বাস্তু অবস্থায় আছেন।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘‘জীবনে অনেক কষ্ট দেখলেও এমন ভয়াবহ অবস্থা কখনও দেখেননি। চরাঞ্চলের শত শত মানুষ এখন দিশেহারা।’’
চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলেও প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দশ থেকে পনেরো দিনের ভাঙনে বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও দোকানপাটসহ অন্তত ত্রিশ থেকে চল্লিশটি স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলেও ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আবাদি জমির ফসল নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ নৌকা ছাড়া চলাচল করতে পারছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে নয় সেন্টিমিটার এবং কাজিপুর পয়েন্টে সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কিছু এলাকায় ভাঙনরোধে কাজ চলছে। তবে যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।