সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও হাসিনার বই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত সরকারসংশ্লিষ্ট বই থাকায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়ি আটক করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে গেছে ছাত্রদলের একদল নেতা–কর্মী। পরে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে এসব বই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন, দিনের মধ্যে তিনি বইগুলো লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলবেন। এসব বই আর পাঠকের হাতে যাবে না। অঙ্গীকারনামায় দুঃখও প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু বই বের হয়েছে, যেটা আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছি, এই বই বা বিগত সরকারের গুণগান গাওয়া বই আর এই গাড়িতে বহন করব না এবং কোনো স্পটে নিয়ে যাব না। আমরা আজকেই এ বইগুলো সরিয়ে ফেলব।

প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কাজ করছে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির একটি গাড়ি ছিল রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে। এ সময় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত সরকারসংশ্লিষ্ট বই দেখে আপত্তি জানান। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন) গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যান। ডিসিকে ডেকে এনে বইগুলো দেখান।

এ সময় সাংবাদিকেরা ডিসি কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সম্মত হননি।

ডিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ঢুকতেই আমরা দেখি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নেত্রী শেখ হাসিনার নিজের লেখা বই, ওবায়দুল কাদেরের নিজের লেখা বই। এখানে শেখ মুজিবের বই। এসব বই তিন শর অধিক। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এই বই পড়ানো হচ্ছিল। শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা পাঠকের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা আবার সেই চেষ্টা কি না, আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।

এসব বই নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, যারা দায়িত্বে আছেন, তারাই বলতে পারবেন। কুড়িগ্রামে কিন্তু সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যে ফ্যাসিবাদের যে বইগুলো আছে, সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সেটা করেননি। যারা দায়িত্বে ছিলেন আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বইগুলো আগে থেকেই ছিল। এক বছর আমাদের প্রকল্পটা বন্ধ ছিল। গাড়িটা দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা আউট করেছিলাম। কিন্তু আসলে বইগুলো রাখার জন্য আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই গাড়িতেই একটু আড়াল করে রাখা ছিল, যাতে পাঠকেরা না দেখে। তারপরও কিছু পাঠক খুঁজে খুঁজে বের করে এলোমেলো করে রেখেছিল। ছাত্রদল আমাদের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: