![]()


সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ভরারগাঁও গোফরাঘাট জলমহাল থেকে মাছ লুটের ঘটনায় অজ্ঞাত ২ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) কচুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি লংকেশ্বর দাস খোকার দায়ের করা মামলায় ২২ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২ হাজার জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: জীবন রায়, এরশাদ মিয়া, হুমায়ূন, বাধন বৈষ্ণব, সমরিন বৈষ্ণব, মৃদুল বৈষ্ণব, পিন্টু তালুকদার ও মৃদুল দাস।
পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৫ মার্চ সকাল ৭টার দিকে প্রায় দুই হাজার লোক সংঘবদ্ধভাবে জলমহালে প্রবেশ করে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। জলমহালটি কচুয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ইজারাভুক্ত ছিল এবং গত দুই বছর ধরে এটি মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
ভুক্তভোগী লংকেশ্বর দাস খোকা জানান, জলমহালটি নিয়মিত খাজনা ও ভ্যাট পরিশোধ করে বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে দিরাই থানার কল্যাণী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অবৈধভাবে জলমহালে প্রবেশ করে আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, কার্পু, গ্রাস কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার অন্যান্য জলমহালেও যারা অবৈধভাবে মাছ আহরণের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, গেলো ৫ দিনে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে জলমহালের কোটি কোটি টাকার মাছ লুট করা হয়েছে। দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জে ১২টির বেশি জলমহাল থেকে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ মাছ ধরে নিয়ে গেছে। মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে এসব জলমহাল ইজারা থাকলেও মূলত সেগুলো আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা পলাতক থাকায় স্থানীয় লোকজন সুযোগ নিয়ে মাছ লুটের ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জলমহাল থেকে মাছ লুটের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।