![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ‘ছদ্মবেশে’ ঢুকে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, রাজনৈতিক ইন্ধনে অস্থিরতা সৃষ্টির এই খবরের মাঝেই মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকালে এক বার্তায় জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য। তাঁরা পোশাকশ্রমিক না হয়েও সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনে মিশে গিয়ে শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবারই সরকারের নীতিনির্ধারক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে পুঁজি করে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রী ও একটি নিষিদ্ধ সংগঠন ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ডিএমপির এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই অভিযোগের সত্যতা সুস্পষ্ট হলো।
নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তারের খবরের মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ব্যাপক ধাওয়া – পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মুহুর্মুহু টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। এতে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই ঢাকার মিরপুর, সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। গত বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
শনিবার কারখানার ভেতরে শুরু হওয়া কর্মবিরতি দ্রুতই মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রোববারের বিক্ষোভে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সহিংস রূপ নেয়। ওই দিন মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কয়েকজনকে আটক করা হয়।
টানা সহিসংতার পর সোমবার মিরপুরে কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিন আন্দোলনরত শ্রমিকদের মূল সড়কে নামতেই দেওয়া হয়নি। মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরে মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকেরা পুনরায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও, রাজনৈতিক বহিরাগতদের ছদ্মবেশী তৎপরতায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।