![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পঞ্চম দিনে পা দেওয়া শ্রমিক বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালের দিকে শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও হঠাৎ করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বর্জ্য ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তাঁরা আশপাশ থেকে বর্জ্য এনে মহাসড়কের ওপর জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এর ফলে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এমনকি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা দিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়কের ওপর ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরও পেশাগত কাজে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছিলেন, সকাল ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশ মহাসড়ক ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেয়। সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত কয়েক দিন ধরেই ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। সরকার ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানালেও বিজিবি মোতায়েনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজপথের এই অস্থিতিশীলতা পুরোপুরি নিরসন হয়নি।