![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত দিয়েছে সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ছাড়পত্র ও আনুষঙ্গিক অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপটিতে পর্যটক পরিবহন শুরু হচ্ছে না।
জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে তিনটি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। তবে জাহাজগুলোর চলাচলের সময়সূচি ও রুট পারমিট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্ট এবং কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে দি সি প্রিন্সেস হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।
সভা শেষে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের জারি করা শর্তাবলির কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা তৎপর রয়েছেন।
১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের নিবন্ধন করতে ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ওয়েবসাইট খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর চিঠি এবং সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য আপাতত তিনটি জাহাজের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জাহাজগুলো হলো, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ।
এর মধ্যে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭৩২ জন, এমভি বারো আউলিয়ার ৮৫০ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। তিনটি জাহাজের মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন।
বিআইডব্লিউটিএর ২৭ অক্টোবরের চিঠিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই তিনটি জাহাজ চলাচলের নীতিগত সম্মতি চাওয়া হয়। পরে ২৯ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে নীতিগত সম্মতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব পর্যটন নির্দেশিকা-২০২৩ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ জাহাজগুলোর জন্য সময়সূচি ও রুট পারমিট দেবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরবর্তী সময়ে আরও জাহাজ যুক্ত হয়ে মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা এ সীমা ছাড়ালে পর্যটক পরিবহনে রোটেশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, চলতি মৌসুমে জাহাজ চলাচলের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়েছে। তিনটি জাহাজের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। আরও সাতটি জাহাজের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলো চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরও কিছু দাপ্তরিক কাজ বাকি আছে। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সেসব কাজ শেষ করতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
বাহাদুরের ভাষ্য, সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ৪ বা ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরীও জাহাজের ছাড়পত্র পেতে সময় লাগার কথা জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পর্যটকদের জন্য অনলাইনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা চালু হবে।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য দ্বীপটির ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে পর্যটন মৌসুম শুরুর নির্ধারিত তারিখে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়ায় ভ্রমণ প্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরও কয়েক দিন বাড়ছে।