![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমিকপক্ষ থেকে প্রতিনিধির তালিকা পাওয়া মাত্রই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানিয়েছেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মালিকপক্ষ থেকে প্রতিনিধি তালিকা পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম সভা এবং তৈরি পোশাক বিষয়ক টিসিসির ২৫তম সভায় তিনি এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী নাম না পাওয়ার কথা জানালেও শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রোববার বলেছিলেন, মজুরি বোর্ডের একজন শ্রমিক প্রতিনিধির জন্য সেদিন তারা তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছেন।
এ তিনজনই শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা বলেও জানান আনোয়ার হোসেন। তারা হলেন—জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কহিনুর মাহমুদ ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম।
শ্রমিক দলের তরফে রোববার নামের তালিকা জমার কথা বলা হলেও শ্রমমন্ত্রী মঙ্গলবার বলছেন, তালিকা পান নাই।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে বলেন,ও হুলস্থুল করছে ভাই। ওই একটু টেকনিক্যাল তো, এজন্য নাম চেঞ্জ করে আজকে আবার দিছি।
শ্রম আইন অনুযায়ী সরকার চার সদস্যের একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে থাকে। এতে থাকেন একজন চেয়ারম্যান, নিরপেক্ষ সদস্য, মালিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক প্রতিনিধি।
সুনির্দিষ্ট কোনো শিল্পের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই শিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এ বোর্ডের সঙ্গে কাজ করেন।
শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিল্পের মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ অথবা উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সেই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান শ্রম অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালিকপক্ষকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে পথ রোধ করে কোনোভাবেই যেন জনভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। কোনো সমস্যা থাকলে তা কারখানার অভ্যন্তরে বসে আলোচনা করে সমাধান করুন।
সরকারকে বিব্রত করা বা কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছি, প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের বাইরে থেকে যারা প্ররোচনা জোগাচ্ছেন এবং নন-ইস্যুকে ইস্যু বানাচ্ছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। তৃতীয় পক্ষ এসে শিল্প খাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
সভায় শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার সাম্প্রতিক অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস-জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরেক শ্রমিক নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে টিসিসি সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজিএমইএ সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতির দ্রুত ও টেকসই সমাধান দাবি করেন।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একই মনোভাব পোষণ করলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ মালিক ও শ্রমিকপক্ষের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।