![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে দুই দফায় মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম দফায় মারধরের পর বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় দলবদ্ধ মারধরের শিকার হন ওই যুবক। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪৩) দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।
দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানান, মঙ্গলবার সুবর্ণাবাদ এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে এক যুবকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই আবদুল জলিল বলেন, শামীম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র থাকাকালীন বাড়ি ফেরার পথে কয়েক বছর আগে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনার পর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। সোমবার রাতে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নেন। পরে আমার ভাই আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে সবুর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দুই দফায় মারধর করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।“
স্থানীয় মোতালেব হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার সকালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে উপজেলার সখীপুর এলাকায় শামীমকে মারধর করেন কয়েকজন।
“এক পর্যায়ে তিনি নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে ‘তৌহিদি মুসলিম জনতা’র স্লোগান দিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমকে মারধর করেন।”
তিনি বলেন, “শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, নিহতের স্বজনরা মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আইন ও বিধি অনুযায়ী থানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শামীম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন কি-না এ প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, “বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শামীমের পরিবারের বক্তব্যের বিষয়টি শুনেছি। তবে তার মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি যাচাই করা হয়নি।”
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।