![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী আদালতে রিট আবেদন করেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি সন্দেহের কারণে তাঁর স্বামীকে আটক রাখা হয়েছে এবং তাঁদের দেশান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্ত্রীকে আটক করা হয়নি।
আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন। অথচ তাঁকে আটক করার পেছনে প্রতিবেশীদের বক্তব্য ছাড়া শক্ত কোনো ভিত্তি দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ও নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে কারও নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্বের পক্ষে নথিপত্র উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আদালতকে জানানো হয়, দেশান্তরের নির্দেশটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। বিচারপতি বলেন, কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাঁর বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। কেবল কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঘোষণা করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ দেন তিনি।
শুনানিতে বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, কয়েক দশক ধরে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হলেও, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকে কি ফিরিয়ে পাঠানো সম্ভব? নাগরিকত্ব নির্ধারণে একটি স্পষ্ট ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন, আটক ব্যক্তি জাল নথির মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ যাচাই প্রয়োজন।
পরে মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ও বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে আদালত বা সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছাড়াই তাঁদের সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রতিটি ঘটনার নথিপত্র আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় এক বছর অবস্থানের পর চারজন ভারতীয় নাগরিক যাঁদের মধ্যে একজন নারী ও দুটি শিশু ছিল—গত জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যান।
নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সামনে এল। আদালতের বক্তব্যে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব উঠে এসেছে।