![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
গ্যাস সংকটে গত দুই বছরে যমুনা সার কারখানায় মাত্র তিন দিন উৎপাদন হয়েছে। একই কারণে আশুগঞ্জ সার কারখানা ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে তথ্য দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
এমন পরিস্থিতিতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে সারের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কার্যক্রমও বৈঠকে আলোচনায় আসে। বিসিআইসি ও বিএডিসির সার উৎপাদন, মজুদ এবং বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়।
জামালপুরের তারাকান্দির যমুনা সার কারখানায় ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর টানা ২৩ মাস ৯ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সেখানে আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটি প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম। এর সার ১৯ জেলায় সরবরাহ করা হয়।
তবে উৎপাদনে ফেরার পরও গ্যাসের সংকট কাটেনি। চলতি বছরের ৭ জুন সংসদে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। গ্যাস পাওয়া গেলে কারখানাটি চালাতে সমস্যা নেই।”
আশুগঞ্জ সার কারখানাতেও একই সংকট চলছে। ২০২৫ সালের ১ মার্চ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর থেকে সেখানে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ছিল। কারখানাটির দৈনিক অন্তত ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
সংসদে গত জুনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও আশুগঞ্জে গ্যাস দিতে না পারার কারণ হিসেবে গ্যাস সংকটের কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গ্যাস দিতে হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানায় তখন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু যমুনা ও আশুগঞ্জে সীমাবদ্ধ ছিল না। গত ৬ মার্চ বিসিআইসির পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া কারখানার মধ্যে চারটিতে ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন চালু ছিল শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি। পাঁচটি কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন বলে তথ্য দিয়েছিল বিসিআইসি।
বুধবারের বৈঠকে পে-অফ করা, অর্থাৎ বন্ধ করে কর্মীদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া সার কারখানাগুলো নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। বন্ধ সার কারখানাগুলো আবার চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে পুরোনো সার কারখানাগুলো আধুনিক করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি। বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে।
সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনার সুপারিশ করেছে কমিটি। সারের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায় কত সার আছে এবং কোথায় যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে দেখার জন্য ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও করতে বলা হয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য দিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন। শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিআইসি, বিএডিসি এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে ছিলেন।