সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভাষা নিয়ে ট্রলের জবাব দিলেন রাশমিকা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

তেলেগু, কন্নড়, তামিল কিংবা হিন্দি—একাধিক ভাষার ছবিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে রাশমিকা মান্দানাকে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউড—কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন দ্রুত। ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে তৈরি করেছেন নানা অঞ্চলের দর্শকও। তবে সেই বহুভাষিক ক্যারিয়ারই মাঝেমধ্যে তাঁকে নিয়ে এসেছে সমালোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছবিতে তাঁর উচ্চারণ ও ভাষা বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম ট্রল হয়নি।

এবার সেই ট্রল নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন; বরং নানা ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর সেটিই তিনি স্বাভাবিকভাবে দেখেন।

রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় কোনো বড় চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরু কন্নড় সিনেমা দিয়ে হলেও পরে তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান। এরপর হিন্দি সিনেমাতেও জায়গা করে নেন। তামিল ছবিতেও কাজ করেছেন।

এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশমিকা বলেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি; বরং কাজের সুযোগ এবং দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে। রাশমিকার ভাষায়, তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা মনে করেন। ভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়।

তবে উচ্চারণ নিয়ে যে সমালোচনা হয়, সেটি নিয়েও রাশমিকার অবস্থান বেশ পরিষ্কার। নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো ভাষাতেই ‘খুব ভালো’ নন। অনেক ভাষা জানেন, অনেক ভাষায় কাজ করেন, কিন্তু কোনো একটি ভাষায় নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করেন না।

এ কথার মধ্যেই যেন ট্রলের পাল্টাজবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—একাধিক ভাষায় কাজ করতে গেলে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে শতভাগ নিখুঁত হওয়া সব সময় সম্ভব নয়; বরং চেষ্টা, শেখার আগ্রহ এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির বিষয়টিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

রাশমিকার ক্যারিয়ারও সেই কথারই প্রমাণ। ২০১৬ সালে কন্নড় ছবি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক। এরপর তেলেগু সিনেমায় একের পর এক সফল ছবি তাঁকে দক্ষিণ ভারতের পরিচিত মুখ করে তোলে। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’, ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। পরে ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

একাধিক ভাষার সিনেমায় কাজ করার কারণে রাশমিকাকে এখন ভারতের অন্যতম বহুভাষিক তারকা হিসেবেও দেখা হয়। তবে এই পরিচয়ের সঙ্গে এসেছে বাড়তি চাপও। একটি ভাষায় দর্শক যেভাবে অভিনেত্রীর কথা বলা শুনতে অভ্যস্ত, অন্য ভাষায় সেই একই অভিনেত্রীকে দেখলে উচ্চারণের সামান্য পার্থক্যও অনেকের চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সেই পার্থক্য থেকেই তৈরি হয় ট্রল। কোনো দৃশ্যের সংলাপ, উচ্চারণ কিংবা অভিব্যক্তি নিয়ে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নানা মন্তব্য। রাশমিকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অভিনেত্রী বলছেন, এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না তিনি।

রাশমিকার কাছে সিনেমা মূলত দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেন, কিন্তু একটি ছবির চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত পরিশ্রমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে চলতে চান না তিনি।

বর্তমানে রাশমিকার হাতেও বেশ কিছু বড় কাজ। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। বিয়ের পর এই প্রথম জুটি হয়ে আসবেন তাঁরা। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এ ছাড়া এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি ছবির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: