![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে দুই দিনের ভয়াবহ দাঙ্গায় সাতজন কারারক্ষীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও শতাধিক ব্যক্তি।
রোববার সাজাপ্রাপ্ত ও আটক বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সোমবারও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার বন্দিরা কারাগারের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ওই দিনই দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। এরপর সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিনও তা অব্যাহত থাকে।
দেশটির বিচার ও কারাগারবিষয়ক মন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন পুরুষ বন্দি এবং পাশের ইউনিটে থাকা নারী বন্দিরা মুক্তির দাবিতে কারাগারের ছাদে উঠে পড়েন।
সোমবার বন্দিরা কারাগারের প্রধান ফটকের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এ সময় কারাগারের ভেতর থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা যায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের ভেতরে মাদক চোরাচালানসংক্রান্ত তথ্য এক বন্দি ফাঁস করে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত।
আহতদের কয়েকজনকে নেগোম্বো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এএফপির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, আহতদের কারও শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে, আবার কেউ কাটা ও গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। বাকিদের কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঙ্গার সময় কারাগারের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের ভিড় জমে। কয়েকজন স্বজন বিবিসি সিনহলাকে জানান, তাদের স্বজনেরা কোথায় আছেন কিংবা তারা জীবিত না নিহত হয়েছেন— এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, কারাগারের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের অনুরোধে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কারা কমিশনারের মুখপাত্র এসি গাজানায়েকে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দিদের অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাসা শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে প্রায়ই দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। তবে রোববার ও সোমবারের এই সহিংসতা সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেশটির আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
গত রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।