![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
জামায়াতে ইসলামীতে ‘অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজ আশ্রয় নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ধর্মের নামে রাজনীতি করেন সব নাকি পবিত্র মানুষ। এখানে যেমন তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে ছাত্রলীগের মধ্যে আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে থেকে। অনেক গুপ্ত চাঁদাবাজও জামায়াতের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে রিজভী বলেন, উনারা (জামায়াতে ইসলামী ) বড় বড় কথা বলছেন, টেলিফোনে চাঁদাবাজি হয়েছে। তো নিজেদের দিকে একবার তাকান। মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর বালু তুলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন জামায়াতের দুই নেতা…একজনের নাম জাহাঙ্গীর আরেকজনের নাম রবিউল। ফেনীতে মামলার থেকে অব্যাহতি দেবে বলে এক নেতা সে আবার রোকন তাদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে সেটাও পত্রপত্রিকায় এসছে। আমি তো একটা কি দুইটা উদাহরণ দিলাম। তাহলে তো জামায়াত প্রশ্রয় দেয়।
রিজভী বলেন,আপনারা (জামায়াতে ইসলাম) একটা আরবি শব্দ ব্যবহার করেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন…আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটা একটা বড় ধরনের এই হাদিয়াবাজি-ইয়ানতবাজি আপনারা কম করেন না এবং বহু জায়গায় প্রমাণ আছে যে ধমক দিয়ে থ্রেট করে করছেন আমি তো দুই তিনটার নাম মাত্র বললাম, অসংখ্য আছে।
তিনি বলেন, আমার কথা হল রাজনৈতিক দলগুলো তো থাকতে পারে, ঢুকে যেতে পারে কিন্তু সেই দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না? বিএনপির মধ্যে ৫ অগাস্টের পরে এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড হয়েছে আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে শত শত নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছেন, দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে শোকজ করা হয়েছে…কেউ বাদ যায়নি। শক্তিশালী নেতা থেকে শুরু করে একবারে তৃণমূল পর্যন্ত কেউ বাদ যায়নি।
প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের উদ্যোগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
ওই সভায় জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, তারপরে চাদাবাজির অভিযোগ আপনাদের নামে এবং আপনাদের অধিকাংশ রোকন সদস্য… আপনাদের যে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নানা স্তরের লোক আছেন তারা অভিযুক্ত হয়েছে। যখন পেপারে এসেছে তখন আপনারা বহিষ্কার করেছেন। আপনারা ফেরেশতা হয়ে গেলেন কি করে? এত একেবারে পরিশুদ্ধ হলেন কি করে? তাহলে যেগুলো ধরা পড়েনি। তারা তো আছেই আপনার দলের মধ্যে। তাহলে বড় বড় কথা বলছেন যে। এটা কথা বলছেন এই কারণে যে বোধহয় পাওয়ারে চলে আসবে। কিন্তু এদেশের মানুষের মানে মাইন্ডসেটটা আপনারা বুঝতে পারেননি। এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু জামায়াতকে পছন্দ করে না, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু অতিরিক্ত ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও পছন্দ করে না।
রিজভী বলেন, একদিকে যেমন ধর্ম ব্যবসা জামায়াত করেছে তাদেরকেও পছন্দ করে না। এদেশের মানুষ আবার একবারে ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সহযোগীরা আছে তাদের যে কর্মকাণ্ড সেটাও পছন্দ করে না।
‘আওয়ামী লীগের এক নেতা যেমন বলেছিলেন মনে নাই আপনাদের…লতিফ সিদ্দিকী যে হজ মক্কা শরীফে এগুলো নিয়ে কি মন্তব্য করেছিলেন…হজ আরবরা অর্থনৈতিক কারণে করেছে…মানুষ এগুলো পছন্দ করেনি। আবার ধর্মের নাম বিক্রি করে ধর্ম ব্যবসা করে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া এটাও এদেশের মানুষ কোনদিনই এটা পছন্দ করেনি।’
জাসাসের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আমি মনে করি যে, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তারা একটা এদেশের মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত আমাদের যে সংস্কৃতির যে স্ফুরণ সেটার অনুশীলন এবং চর্চা করা এর সাথে সংস্কৃতি মানেই শুধু নিজস্ব সেটা না। পৃথিবীর ভালো ভালো যে সাংস্কৃতিক অর্জনগুলো সেগুলোকে গ্রহণ করতেও তো কোন অসুবিধা নেই।
‘আমরা বিশ্ব দর্শন কি পড়ি না? আমরা কি ইউরোপীয় দর্শন পড়ি না? আমরা কি ইউরোপের ভালো সংগীত বা অন্যান্য দেশের ভালো যে সংগীত সেই সংগীত কি আমরা শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো পরাশক্তি, কোনো আগ্রাসী শক্তি আমাদের নিজস্ব মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত সংস্কৃতিকে বা আমাদের যে সাংস্কৃতিক যে শক্তি সেটাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে যে ষড়যন্ত্র করবে সেটাকে প্রতিহত করার দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয়তাবাদী শক্তির এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর।’