সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিআরবিতে হাসপাতাল করতে দেব না: মেয়র শাহাদাত

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মেয়র।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে নগরীর জামালখান লিচু তলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’ উদ্বোধন এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এ কথা বলেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর, সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং-সিআরবি এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনার মধ্যেই মেয়র এই ঘোষণা দিলেন।

এদিন বিকালে সিআরবি এলাকায় ‘রেলওয়ের প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্পের স্থান’ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের।

মন্ত্রীর পরিদর্শনের খবর সামনে আসার পর গেল দুদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠন তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে।

শনিবার একাধিক সংগঠন বিবৃতি দিয়ে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্প স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিও জানিয়েছে।

সকালে যখন ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’ দাবিতে সিআরবি এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, তখন একই সময়ে জামালখানে এক অনুষ্ঠানে মেয়রকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

এর আগে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলে মেয়র বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন। এবারও সেই উদ্যোগে তার ভূমিকা জানতে চান সাংবাদিকরা।

মেয়র শাহাদাত বলেন, দেখুন আপনাদের এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি…। এখানে অনেক কথা আসছে সিআরবি নিয়ে। আমি গতকালকে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। উনাকে আমি বলেছিলাম, যে এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হসপিটাল বা স্থাপনা আমরা করতে দিব না। এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নিবে না। উনিও (রেলপথ মন্ত্রী) এ ব্যাপারে একমত। উনি বলেছেন, পুরানো যে হসপিটালটা আছে সেই হসপিটালটা উনি দেখবেন। ওই হসপিটালটার ইনফ্রাসট্রাকচার, দরকার হলে ওটা ভেঙে কিভাবে একটা সুন্দর হসপিটাল করা যায়। এটাও আমাদের সময়ের দাবি যেহেতু ওই হসপিটালটায় রোগী আসে না।

মেয়র বলেন, কাজেই এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি ইতিমধ্যে। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল হসপিটাল এবং কলেজের কথা বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়ত বা আশা করতে পারি পুরনো বিল্ডিংয়ে। কিন্তু নতুন কোন স্থাপনা সেখানে হবে না।

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের সড়ক ধরে কদমতলীর দিকে এগিয়ে গেলে পাহাড়ে ঘেরা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি)।

সড়কের ডান পাশে পাহাড়ের ওপর সিআরবি ভবন। আর বাম পাশে বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল। সিআরবি ভবনের সামনের মোড়টি সিআরবি সাত রাস্তার মোড় নামে পরিচিত। এখান থেকে সাতটি ছোট বড় রাস্তা বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।

সিআরবি মোড় থেকে টাইগার পাস, কদমতলী ও জিএম বাংলোমুখী সড়কগুলোর দুপাশে আছে শতবর্ষী রেইন ট্রি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। টাইগারপাস ও জিএম বাংলোমুখী সড়কের মাঝে বড় মাঠে থাকা শিরীষ গাছের তলায় প্রতি বছর হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।

সড়কের বাম পাশে বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল, পাশের খালি জমি, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি রোড এবং এই রাস্তাটির দুপাশে থাকা জমি নিয়ে মোট ছয় একর জমিতে হাসপাতালটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় সিসিইএ সভায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।

এরপর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাথে সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তারপর ২০২১ সালের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়।

এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)। কার্যনির্বাহী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে ‘ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হাসপাতাল লিমিটেড’।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১২ বছর। প্রকল্পের আওতায় ১০০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ, ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং দুই ধাপে মোট ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে। ৫০ বছর পর প্রকল্পের পুরো মালিকানা পাবে রেলওয়ের।

ওই চুক্তির পর প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং প্রিমিয়াম বাবদ রেলওয়েকে প্রায় আট কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ।

২০২১ সালের জুলাই মাসে এ প্রকল্পের জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু হয়। টানা ১৫ মাস ধরে সেই আন্দোলন চলে।

সেই আন্দোলনে ‘নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম’ এবং ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’সহ বেশ কিছু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নিয়েছিল। এক পর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতা সিআরবিতে হাসপাতাল না করার পক্ষে অবস্থান নেন।

টানা ৪৮০ দিন ধরে চলা সেই আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার ঘোষণা দেয়।

ওই আশ্বাসে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে সেই আন্দোলন শেষ হয়। প্রায় তিন বছর চার মাস পর সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্পের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: