সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত হত কেবিনেটের বাইরে: সাখাওয়াত

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সে সময় সরকারের ‘বেশিরভাগ বড় সিদ্ধান্ত’ হত উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ব্যবহৃত চায়নিজ সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের রাইফেল বেসামরিক ‘বহিরাগতদের হাতে পড়েছিল’–এমন কথাও তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

বৃহস্পতিবার চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত ওই সাক্ষাতকারে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন।

সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসরে যাওয়া এম সাখাওয়াত হোসেন ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ‘নির্বাচন কমিশনার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে সাখাওয়াতকে প্রথমে স্বরাষ্ট্র, পরে সেখান থেকে সরিয়ে শ্রম ও নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি নির্বাচন কমিশনার থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে একটি জাতীয় নির্বাচন হয়। সেই সুবাদে দেশের সংবাদমাধ্যমে ‘নির্বাচন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে তিনি কথা বলে আসছিলেন।

এম সাখাওয়াত হোসেন সাক্ষাৎকারে অনুযোগ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হওয়ার পর নির্বাচন বিষয়ে সরকারের কেউ তার সঙ্গে কোনো কথা বলেনি।

সাক্ষাতকার গ্রহণকারীর একটি প্রশ্ন ছিল বেশ দীর্ঘ। প্রশ্ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই প্রধান উপদেষ্টা বলে আসছিলেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে। সেই নির্দিষ্ট সময় কতটুকু, নির্দিষ্ট সেটা উনি বলেননি। সেনা প্রধান বলেছিলেন ১৮ মাস, আমরা দেখলাম ১৮ মাসের মধ্যেই নির্বাচনটা হল।

“কিন্তু একটি পক্ষ বারবারই বলার চেষ্টা করেছে আপনাদের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ এই নির্বাচনটা এই সময়ে হোক সেটা চায়নি। একটু দেরিতে হোক এটা চেয়েছে। এবং দুই-তিন জনের কথা বলা হচ্ছে। আপনি ছিলেন নাকি তাদের মধ্যে?”

জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “না, আনফচুনেটলি আমি…। যারা ছিলেন তারা নিজেরা মোটামুটি ক্লোজ ছিলেন। আমি কোনোদিন এসব আলোচনার মধ্যে আসিনি। আমাকে তারা কখনো ডাকেওনি, আমি থাকিওনি। আমি আমার মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওই সময় শ্রম মন্ত্রণালয় একটা বিশাল অগ্নিগহ্বরের মধ্যে ছিল।

“আর ইনফ্যাক্ট, আমাকে কেউ ডাকেওনি টু গিভ এনি ওপিনিওন অন ইলেকশন, মোডালিটি, এসব পলিটিক্যাল চেইঞ্জেস, এই ইলেকশন।”

নির্বাচন কমিশনে কাজ করার পরও কেন উপদেষ্টাদের কেউ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে ডাকল না–সেই প্রশ্নে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আই অ্যাম স্যরি টু সে, অ্যান্ড ক্লিয়ার টু সে, আই ওয়াজ নট দেয়ার কনসালট্যান্ট।”

কিন্তু এর কারণ কী? সাক্ষাৎকার গ্রহীতার এই প্রশ্নে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সেটাতো আমি বলতে পারব না।”

একটু বিরতি নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন আবারও বলেন, “হয়ত আমি ওই মনোভাবের লোক ছিলাম না। হয়ত আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না। কারা করেছেন তারা জানেন, তবে কারা করেছেন আই ডোন্ট নো।”

প্রশ্নকর্তা বলতে ‍শুরু করেন, “কিন্তু ওই লোকগুলোতো চিহ্নিত… যারা…।”

প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, “আমি নাম শুনছি। তারা আমার কলিগ ছিলেন, এটুকুই। কিন্তু তারা কখন, কীভাবে, কী কাজ করেছেন…”

তাদের কর্মকাণ্ডে কখনো কি মনে হয়েছে যে তারা নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছেন?

এ প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ওপেনলি তো কেউ কিছু বলেনি। নির্বাচন পেছানোর কথাও আমি শুনিনি। বরং বলা হল যে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ইলেকশনটা হবে। তখন আমরা সাধারণ যারা ছিলাম, তারা বললাম ‘ওয়েলকাম। ঠিক আছে এটা ভালো। একটা নির্বাচিত সরকার আসুক।’

“কারণ আমরা যতটুকু করতে পেরেছে পেরেছি। কিন্তু আমাদের পক্ষে ওই অবস্থানে… আপনাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা ভেতরে আছি বলে বুঝতে পারছি না। এটা বিশাল … হয়ে গেছে। এবং একটা লিডারলেস একটা; অভ্যুত্থান বলি, রেভ্যুলেশন বলি- যাই নাম দিই না কেন…।

“এবং চারিদিক থেকে তো বিভিন্ন এলিমেন্ট কাজ করছিল। কেউ বলছে সংবিধান ছুড়ে ফেলে দাও, কেউ বলছে ওইটা কর, কেউ বলল এটা কর। এবং পাবলিকও বাইরের কথা শুনে একটু উত্তেজিত হচ্ছিল।”

নির্বাচন নিয়ে ওই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই সাবেক প্রধান উপদেষ্টার ‘কিচেন কেবিনেট’ নিয়ে কথা বলেন সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, “আমি প্রথম কৃতিত্ব দেব আন্তর্বর্তী সরকারকে যে এরকম একেটা ভোলেটাইল জায়গা থেকে মোটামুটি একটা অবস্থায় নিয়ে আসছে। আমার চোখে খুব বড় ধরনের গাফিলতি চোখে পড়েনি।

“কিছু কিছু বিষয়ে দ্বিমত করেছি, ওটা ছোট খাট। আমরা সেখানে ২৭ জন। কিন্তু আনফরচুনেটলি এই ধরনের বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটেও আলোচনা হত না। মোটামুটি কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হত।”

তিনি বলেন, “আপনারা শুনেছেন আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু উপদেষ্টা বলেছেন, সব সরকারেই একটা কিচেন কেবিনেট থাকে। উনি নিজে বলেছেন, তবে আমি জানি না কিচেন কেবিনেটে কারা কারা ছিলেন।”

পুলিশের ৭ পয়েন্ট ৬২ রাইফেল

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৯ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন সাখাওয়াত হোসেন। আন্দোলনে আহত আনসার সদস্যদের দেখতে গিয়ে সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের রাইফেলের গুলি নিয়ে কথা বলে আলোচিত হন তিনি।

তখন তিনি বলেছিলেন, “পুলিশ সদস্যদের হাতে সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের রাইফেল আছে সেটা মেনে নিলাম। কিন্তু সিভিল পোশাকে কারা আনসার গেটের মধ্যে গিয়ে গুলি করেছে, এটা খুবই মারাত্মক।

“তার মানে আমরা সিভিলিয়ানকেও আর্মড করেছি। যে অস্ত্র সিভিলিয়ানের হাতে যাওয়ার কথা নয়। যে অস্ত্র পুলিশ-র‍্যাবকে অথরাইজড করা হয়েছিল, সেই অস্ত্র কীভাবে বাইরে গেল। আমি এই ধরনের স্বৈরাচার ব্যবস্থা দেখিনি।”

এই বক্তব্য দেওয়ার পর সপ্তাহ ঘোরার আগেই তাকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব পান শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের।

চ্যানেল ওয়ানের সাক্ষাতকারে প্রশ্ন আসে: “ওই সময় যে প্রসঙ্গটা নিয়ে আপনি বারবার বলছিলেন, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বুলেট। ওটার সমাধান কী হয়েছে এখন?”

জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ওটার সমাধান হয়নি। আমি বলতে চাই তখন কথাটা যেটা বলেছি… আমি গিয়েছিলাম আনসারের ওখানে, দেখতে। ওদের অনেককে গুলি-টুলি মারছে। আনসারকে গুলি মেরেছে, তারপরে আমি কতোগুলো ভিডিও দেখলাম লুঙ্গি পরা, গেঞ্জি পরা, হেলমেট লাগানো আর হাতে পুলিশের রাইফেল।

“পুলিশের কাছে সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু চায়নিজ রাইফেল টাইপ থার্টি নাইন। এটা খুব একটা মারাত্মক মারণাস্ত্র। যেটা সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটাকে আমরা বলি ‘প্রহিবিটেড বোর’।”

তিনি বলেন, “পুলিশকে এই রাইফেলগুলো দেওয়া হয়েছে। কবে দেওয়া হয়েছে, আমি ঠিক জানি না। আমার ইচ্ছে ছিল এটার একটা এনকোয়ারি করতে যে এই রাইফেলগুলোতো পুলিশের পাওয়ার কথা নয়। এই রাইফেলগুলো পুলিশকে দেওয়া হল কখন, কী কারণে এবং কেন।

“তো ওই প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম এই রাইফেল বা অ্যামিউনেশনগুলো পুলিশের হাত থেকে সিভিলিয়ানদের হাতে কীভাবে গেছে। এর পেছনের ব্যাকগাউন্ডটা আমার কাছে কেউ জিজ্ঞেস করেনি। আমার কাছে এমনও ছবি আছে যে… সন্দেহজনক এরা কারা। এদের চেহারা, গঠন আমাদের মত না।”

প্রশ্নকর্তা বলতে শুরু করেন, “মানে বাইরে থেকে কী কাউকে…।”

প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “মনে হচ্ছিল, আমি তো বহিরাগত শব্দটা ব্যবহার করেছি।

“স্নাইপার, আমাদের দেশে স্নাইপার আছে। পুলিশেরও আছে, সেনাবাহিনীতেও আছে। কিন্তু এত অহরহ এরকম ট্রেইন্ড স্নাইপার… কয়েকজনকে তো আমরা দেখলাম হেলিকপ্টারে ওঠানো হয়েছিল। ওদের চেহারার গঠন-মঠন তো আমাদের মত না।”

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা বলেন, “তাহলে আপনি বলছেন যে এটা বাইরে থেকে এসেছে?”

জবাবে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, “তদন্ত না করে তো বলা যাবে না। আমি তো তদন্ত করতে চেয়েছিলাম।”

সেই তদন্ত কি করা গিয়েছিল? সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “না, আমি তো ছিলামই না। করব কীভাবে।”

সরিয়ে দেওয়ার কারণ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে কেন সরিয়ে দেওয়া হল– সেই প্রশ্ন করলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ওই সময় হয়ত আমি এমন কিছু কথা বলেছি যেটা ইনএপ্রোপ্রিয়েট। কিন্তু এখন তো দেখি যে তার চাইতে বেশি হচ্ছে।”

পদত্যাাগও করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে সাবেক উপদেষ্টা সাক্ষাতকারে বলেন, “আমি যে কথাটা বলেছিলাম, সেটা একটু খণ্ডিত খণ্ডিত এসছিল। আমি চলে আসতে চেয়েছিলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে। কিন্তু আমাকে ধরে ইউনূস সাহেব অনেক কিছু বোঝালেন।

“আমি বলেছি যে ‘স্যার আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না। আমি থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন, আমি তো হবই।’ কিন্তু উনি বললেন, ‘না, এইসময় কোনো কারণেই ইউ শ্যুড নট লিভ।’ তখন মাত্র সাতদিন বা আটদিন হয়েছিল।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: