![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচন করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইদিন বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্যরা এবং পরে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা শপথ নেন। শপথ শেষে সদস্যরা শপথপত্রে সই করেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে শপথ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে বড় পরিসরে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে ১২ প্লাটুন বিজিবি।
এদিকে আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করেছেন, যেখানে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি নতুন মুখ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে, যার মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে।