সর্বশেষ আপডেট : ১৭ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের অনিয়ম-দুর্নীতির সাতকাহন

খলিলুর রহমান, বড়লেখা প্রতিনিধি ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) ও একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী মীর আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ, নারী শিক্ষকদের যৌন হয়রানি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এই শিক্ষা কর্মকর্তার খুটির জোর কোথায়?

শিক্ষক সমাজের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। ঘুষ ছাড়া কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ও ইন্টারনেট এমবি পর্যন্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইন প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও ঘুষ ছাড়া বদলি হয়নি। সম্প্রতি দুই শিক্ষকের আবেদন একসঙ্গে হলেও, একজন ৩৫ হাজার টাকা দেয়ায় তার বদলি অনুমোদিত হয়, অপরজনের আবেদন বাতিল করে দেন মামুন।
নতুন বছরের বিনামূল্যে বই বিতরণেও দুর্নীতি। কিন্ডারগার্টেনগুলোকে বই পেতে ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও মেরামতের কাজে ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত ভাগ দাবি করেছেন। টাকা না দিলে বরাদ্দ আটকে দেন। পরিদর্শনে গেলে খাবারের ব্যবস্থা ও খামে টাকা নিতে হয়। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, না হলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়। তার দায়িত্বকালে ২০-২৫ জন শিক্ষক অনুমতি ছাড়া বিদেশে গেলেও তিনি মাসোহারা নিয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন। বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র তৈরির নিয়ম উপেক্ষা করে নিজ নিয়ন্ত্রণে তৈরি করে টাকা আদায় করেন। এছাড়াও ২০১৯ সালে বড়লেখায় যোগদানের কিছুদিন পরই তিনি এক নারী শিক্ষককে কূপ্রস্তাব দেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদকারী অপর এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয় বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জাতীয় গণমাধ্যম দৈনিক মানব জমিনে ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি তার অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মেরামতের নামে প্রায় ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় নির্বাচনের খাতে বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকার বড় অংশ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার দুটি বই জোরপূর্বক বিক্রি করে ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এত অনিয়ম-দুর্নীতির পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার খুঁটির জোর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: