সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাঘ দিবস : সুন্দরবনের রায়েল বেঙ্গল টাইগারের টিকে থাকার লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার ::

আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। ‘মানুষ-বাঘের সুরেলা সহাবস্থান’ প্রতিপাদ্যে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা, সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর এ দিনটি পালন করা হয়। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সম্মেলনের মাধ্যমে দিনটির সূচনা হয়।

বাংলাদেশের জন্য এই দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাঘের আবাসস্থল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের বাঘ জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে, যা ২০১৮ সালের ১১৪ এবং ২০১৫ সালের ১০৬টির তুলনায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এবারের জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, ২১টি বাঘশাবকের ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়, যেখানে পূর্ববর্তী জরিপগুলোতে মাত্র ৫টি শাবকের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।

সুন্দরবনের ৬০৫টি গ্রিডে ১,২১০টি ক্যামেরা স্থাপন করে ৩১৮ দিন ধরে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রায় ১০ লাখেরও বেশি ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ৭,২৯৭টি বাঘের ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক। জরিপ কার্যক্রমে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

তবে আশার এই আলোয় কিছু বাস্তব সংকটও বিদ্যমান। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যসংকট, চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য এবং টেকসই পদক্ষেপের অভাব—সবকিছু মিলে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার আজো রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাঘের টিকে থাকার লড়াই দিনকে দিন কঠিনতর হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর বন ভবনের হৈমন্তি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরাও অংশ নিয়েছেন।

সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, “সুন্দরবনের বাঘ পাচারের পেছনে আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন বিভাগের নিয়মিত অভিযানের পরও এই পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।”

বিশ্ব বাঘ দিবসে নতুন করে প্রতিশ্রুতি হোক—বাঘ রক্ষায় সুরেলা সহাবস্থানের, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দরবনের গর্জন আজীবন বেঁচে থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: