সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিকৃবির আবাসিক হলে মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি: শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) আব্দুস সামাদ আজাদ হলের একটি কক্ষ থেকে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪.৩০ এ আমি আমার মোবাইল (স্যামসাং এস টোয়েন্টিথ্রি আল্ট্রা) চার্জে রেখে বালিশ চাপা দিয়ে গোসলে যাই, ৫ টার দিকে গোসল থেকে এসে দেখি আমার মোবাইল নেই। তখন বন্ধুদের সহ হলের নিচে গিয়ে দেখি গার্ড সিরাজ মামা গেইটের কাছে নেই। সেখানে আমরা তার জন্য ১০/১২ মিনিট অপেক্ষা করি কিন্তু তবুও তাকে পাইনি। তারপর প্রক্টর স্যারের কার্যালয় থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে সন্দেহভাজন একটি ছেলেকে শনাক্ত করি। ছেলেটি ক্যাম্পাসের কেউ না। তবে সিসি ফুটেজে সেই ছেলেটি আমাদের হলের প্রধান বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমের সাথে কথা বলতে দেখা যায়। কিন্তু তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে এই ছেলেকে সে চেনে না এবং সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বয়ান পেশ করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরো জানান, যেদিন চুরি হয় সেদিন সকালে ইব্রাহিমকে চুরি যাওয়া রুমের চারি দিকে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। এর পূর্বে হলের ডাইনিং এর ফ্রিজ থেকে এক শিক্ষার্থীর মাছ চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।

পাশাপাশি গার্ড সিরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উনি ওয়াশরুমে ছিলেন বলে জানান। এত সময় ধরে ওয়াশরুমে থাকার ব্যপারে জানতে চাইলে উনি কোনো সদোত্তর দিতে পারে নি।

এদিকে আজাদ হলের প্রধান বাবুর্চি মো. ইব্রাহিমের কাছে জানাতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘আমি যখন সাইকেল নিয়ে বের হচ্ছিলাম তখন একটা ছেলের সাথে আমার কথোপকথন হয়। পরবর্তীতে আমি চলে যায়, তবে ঐ ছেলের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। আমাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে চুরির ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।”

এ নিয়ে সিকৃবি কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান জানান, “দু’একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এখনও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রমাণিত হয় নি। কর্মচারী পরিষদ বিষয়টা তদন্ত করতেছে৷ যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

চুরির ঘটনায় আব্দুস সামাদ আজাদ হলের প্রভোস্ট ড. মির মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের থেকে এ ঘটনা জানার পর তাদের সাথে নিয়ে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ চেক করে দেখা যায় বহিরাগত একজন হলে ঢুকেছে। গার্ড ডিউটি অবস্থা থাকা সত্বেও কীভাবে বহিরাগত হলে ঢুকে ও পুরা ঘটনা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রক্টরের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ শিক্ষার্থী শাহপরান থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াধীন আছে, তদন্ত চলছে।”

এ ব্যাপারে সিকৃবির নিরাপত্তা শাখার প্রধান কর্মকর্তা আফরাদুল ইসলাম তারেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ব্যক্তিগত কারণে কয়দিনের ছুটিতে রয়েছি। তবে নিরাপত্তা শাখার এ ব্যপারে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। হল প্রভোস্টই মূলত হলের যাবতীয় সকল নিরাপত্তার ব্যাপারটা দেখে থাকে। আর আমরা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকগুলাতে নিরাপত্তার ব্যাপারটা নিশ্চিত করে থাকি।

ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ পরান হল থেকে একটি ল্যাপটপ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিলো বলে জানা যায়। ভুক্তভোগী কৃষি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি অনুষদের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী স্বনন সম্যক ধর জানান, “গত ১৫ই ডিসেম্বর হযরত শাহ পরাণ হলের ৫২৪ নাম্বার রুম থেকে তার একটি ল্যাপটপ (এসার এসপায়ার ত্রিএ মডেল) চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি উনি তখন হলের প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অভিযোগ দিলে তারা বিষয়টা খতিয়ে দেখার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান দিতে পারে নি বলে জানান স্বনন”

কয়েকমাসের ব্যবধানে দুইটি হল থেকে মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি যাওয়ায় নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: