![]()


সিলেটের ওসমানীনগরে ৩ প্রবাসীর মরদেহে রাসায়নিক বা বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি, বরং এটি একটা দুর্ঘটনা বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ২৫ জুলাই রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর প্রায় ২ ঘন্টা চলেছে।
শোবার কক্ষে কোনো ভেন্টিলেশন ছিলো না। যে কারণে এই সমস্ত ধোঁয়া দরজা দিয়ে রুমে ডুকে দমবন্ধ হয়ে এই দূর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে এটি একটি দুর্ঘটনা।
তদন্তে প্রবাসী পরিবারের স্বজন ও আশেপাশের সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদে পূর্বশত্রুতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দু-এক দিনের মধ্যে ভিসেরা রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে বলে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন তথ্য করেছেন।
ঘটনার রাতে দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু থাকায় ধোঁয়ায় অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর এক ছেলে এবং মেয়ে।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে করে এ তথ্য জানান সিলেটের পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত) ডিআইজি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।
পুলিশ সুপার আরো জানান, জেনেরেটরের ধোঁয়া থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই রফিকুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন। এরপর ঢাকায় একসপ্তাহ থেকে গত ১৮ জুলাই তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন । ২৫ জুলাই সোমবার রাতের খাবার খেয়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে বাসার একটি কক্ষে রফিকুল এবং অপর দুটি কক্ষে শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক, শ্যালকের স্ত্রী ও শ্যালকের মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
সকালে বাসার অন্যান্য কক্ষে থাকা আত্মীয়রা ডাকাডাকি করে রফিকুলদের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানাপুলিশের একটি দল গিয়ে দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রফিকুল ইসলাম ও মাইকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি তিনজনকে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়।