![]()


জকিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রায় ১০০টি গ্রামে বন্যার পানি হানা দিয়েছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ সকল ক্ষেত্রে বন্যা মারাত্মক ক্ষতি করেছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা জানান, বন্যায় ১২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাঝে ৫৫টি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি ঢুকেছে। প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুস ছালাম জানান, ৩৮ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে বন্যার পানি ঢুকেছে। ৭টি স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। প্রচুর শিক্ষক -শিক্ষার্থীর বসত ঘরে পানি উঠেছে। কিছু শিক্ষার্থীর বই খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে।
মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার আবু তাহের চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যায় ৬ হাজার ৩৫০টি পুকুরের মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে পুকুরের পাড়সহ অবকাঠামোগতভাবে। এতে প্রায় ৬ কোটি ২২লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনছুরুল হক জানান, ৭৯টি রাস্তা মারাত্মক বিধ্বস্ত হয়েছে। একাধিক নির্মাণাধীন নতুন রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ রাস্তার উপরি অংশের পিস উঠে গেছে। গর্ত হয়েছে। কিছু রাস্তা মারাত্মক বিধ্বস্ত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার শেখ ফরিদ জানান,বন্যায় ২৪৫ হেক্টর জমির আউশ বীজতলা, ২৮৫ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম ফয়সাল জানান, ১০০টন চালের চাহিদার বিপরীতে ৬২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। তাছাড়া ১ লাখ টাকা ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।