সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নিজের মাঝে ক্রমশ তৈরি হওয়া হতাশা কমাবেন কীভাবে?

অন্যান্য সকল মানসিক সমস্যা কিংবা নেতিবাচক আবেগের মাঝে ‘হতাশা’ সবচেয়ে ভয়ংকর। কারোর মাঝে কোন কারণে হতাশা বোধ তৈরি হলে সে যেকোন কিছু করার ইচ্ছা, আগ্রহ, উদ্দীপনা, কাজ করার জন্য মানসিক শক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলেন। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি হতাশা বোধ করেন এবং তার কাছে সবকিছুই খুব বেশী জটিল এবং কঠিন মনে হতে থাকে।

কেন হতাশা বোধ তৈরি হয়?
একদম সঠিকভাবে কিংবা বিশেষভাবে বলা সম্ভব নয় যে, কারোর মাঝে কেন হতাশা বোধ তৈরি হওয়া এবং কাজ করা শুরু করে। এটা হতে পারে নিজের ব্যর্থতা থেকে, কোন দুর্ঘটনা থেকে, মানসিক চাপ থেকে কিংবা অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পাওয়ার ফলে! তবে, যে কারণেই হোক না কেন, কারোর মাঝে একবার হতাশা বোধ দানা বাঁধতে শুরু করলে সেটা কেবল বাড়তেই থাকে।

কীভাবে হতাশা বোধ কমানো যায়?
হতাশা ব্যাপারটা খুব সহজ কিংবা সাধারণ কিছু নয় যে আঙ্গুলের এক তুড়িতেই ভালো হয়ে যাবে কিংবা একদিন পরেই এই সমস্যা মিটে যাবে। হতাশা খুব ভয়াবহ এবং গভীর একটি মানসিক ব্যাধী যা কিনা একজন মানুষকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেওয়া জন্যে যথেষ্ট! তাই খুব সহজ কিছু উপায়ে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে কারোর হতাশা একেবারেই দূর করাটা খুবই কঠিন ব্যাপার। তবে অসম্ভব ব্যাপার নয়! এর জন্যে থাকতে হবে নিজের ইচ্ছা, চেষ্টা এবং অনুশীলন।

নিজের হতাশাগুলোর সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে সামনে চলা, কাজ করা, নিজেকে কার্যক্ষম রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কিছু কাজ এবং অভ্যাস গড়ে তুললে নিজের মাঝে তৈরি হওয়া হতাশা কমে যাবে অনেকখানি। সঠিকভাবে ও নিয়মিত পালন করতে পারলে অনেকাংশে ভালোও হয়ে যাবে।

১। প্রিয় মানুষগুলোর সাথে সময় কাটান
হতাশার সময়গুলো হয়ে থাকে খুবই বিরক্তিকর এবং কষ্টদায়ক। হতাশার এই সময়গুলোতে চেষ্টা করতে হবে আপন এবং প্রিয় মানুষগুলোর সাথে বেশী করে সময় কাটানোর, তাদের পাশে থাকার। তাদের সাথে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে খোলামেলাভাবে এবং মন খুলে কথা বলার চেষ্টা করতে হবে।

২। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত থাকুন
হতাশ থাকলে সাধারণত কোন কিছু করতেই ভালো লাগে না। তবে হতাশার সময়গুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে থাকার চেষ্টা করুলে উপকার হবে। বন্ধুদের সাথে গল্প করলে, তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে অনেকটা ভালো সময় কাটানো যাবে। বিভিন্ন ইতিবাচক উক্তি এবং ঘটনা নিয়ে পড়ালেখা করলে নিজের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।

৩। অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করুন
শুনলে অবাক হবেন হয়তো, তবে সত্যি কথা হচ্ছে- নিজের হতাশার সময়গুলোতে অন্যকে সাহায্য করলে, বিশেষ করে কোন অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে অনেকখানি মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, হতাশা ভাব কেটে যায় অনেকটা। নিজের চেষ্টায় অন্যের মাঝে আনন্দ এবং মুখে হাসি ফোঁটাতে পারার মাঝে যে মানসিক তৃপ্তি এবং প্রশান্তি থাকে, সেটা হতাশাকে কাটিয়ে দিতে সাহায্য করে।

৪। নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন
মানসিক সমস্যার জন্যে শারীরিক সমস্যা এবং অনিয়ম অনেকটা দায়ী। গবেষণা জানাচ্ছে, হতাশার সাথে ঘুমের খুব গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো ঘুম আট ঘন্টার অনেক বেশী অথবা অনেক কম হচ্ছে বলে মন খারাপ থাকা ভাব তৈরি হচ্ছে অথবা হতাশা ভাব তৈরি হচ্ছে নিজের মধ্যে। যে কারণে, নিজের ঘুমের সময় সঠিকভাবে নির্ধারণ করে নিতে হবে এবং ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই ঘুমাতে হবে।

৫। নিজের পছন্দমতো শরীরচর্চা বের করুন
ব্যায়াম করতে অনেকেই পছন্দ করেন না বা আগ্রহ পান না। কিন্তু মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকলে মন খারাপ ভাব কমবে তো না-ই, বরং সময়ের সাথে সাথে আরো বাড়তে থাকবে। তাই নিজের পছন্দমতো কোন ব্যায়াম খুজে বের করে ফেলতে পারেন। সেটা হতে পারে দড়িলাফ, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো ইত্যাদি। অনেকটা সময় নিয়ে এই নিজের পছন্দমতো ব্যায়াম করার পরে শরীরের সাথে মনটাও অনেক হালকা এবং ফুরফুরা হয়ে উঠবে।

৬। পছন্দমতো কোন প্রাণী পালন করা শুরু করতে পারেন
কুকুর নাকি বিড়াল পছন্দ করেন? অথবা খরগোশ? পাখি কিংবা কচ্ছপ? যেটাই হোক না কেনো, নিজের পছন্দমতো প্রাণী পালা শুরু করে দিতে পারেন। সম্পূর্ণ নতুন একটি সঙ্গ, নতুনভাবে তাদের সাথে পরিচিত হওয়া, তাদের সাথে সময় কাটানো, তাদের পরিচর্যা করা, তাদেরকে সময় দেওয়ার মাঝে নিজের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশাবোধ গুলো মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ একেবারেই পাবে না।

৭। কী করা ‘উচিৎ’ এবং ‘উচিৎ নয়’ সেটা বুঝতে শিখুন
সবকিছু সকলের জন্য নয়। পরিচিত কেউ অমুক কাজটি করেছে বলে, একেবারেই কোন কিছু চিন্তা না করে নিজেও সেই কাজটি করতে ঝাঁপিয়ে পড়াটা একদম বোকামী। কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন- কাজটি আপনার সাথে মানানসই কী না?

কাজটি আপনি সঠিকভাবে করতে পারবেন কী না? কাজটি করতে আপনি আসলেও আগ্রহী কী না? কোন রকম হিসাব না করে অথবা না বুঝেই কোন কাজ করতে শুরু করে দেওয়ার পর কাজের মাঝে আগ্রহ হারিয়ে ফেললে অথবা কাজটি সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হলে হতাশা আরো বেশী বেড়ে যাবে এবং নতুন কোন কাজ করার উদ্যম একেবারেই হারিয়ে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: