![]()


সিলেট নগরের মেন্দিবাগ এলাকার অন্যতম বড় আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ম্যান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’ মালিকানাধীন আবাসন প্রকল্প গার্ডেন টাওয়ারে দুই লাখ টাকা পরিশোধ করার শর্তে ১৯৩টি চুলায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকার্ট।
আগামী ৫ দিনের মধ্যে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ আবাসন প্রতিষ্ঠানের সব বকেয়া কোম্পানির কাছে পরিশোধ করার জন্যে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) হাই’কোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভা’র্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমা’র বিশ্বা’স।
আ’দালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমা’র বিশ্বা’স। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সম’রেন্দ্র নাথ বিশ্বা’স ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমা’র।
আইনজীবী চঞ্চল কুমা’র বিশ্বা’স জানান, এর আগে গার্ডেন টাওয়ারে ৮১টি অ’বৈধ দ্বৈত গ্যাসের চুলার ব্যবহারের করা হচ্ছে বলে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই গত ১৪ জুলাই টাওয়ারের বৈধ-অ’বৈধ সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জালালাবাদ গ্যাস।
এরপর থেকেই চরম দুর্ভোগে আছেন গার্ডেন টাওয়ারের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। তাদের ঈদও কে’টেছে গ্যাস ছাড়া। এরপরে ১৫ জুলাই নোটিশ পাঠানো হয় যে ৮১টি লাইন অ’বৈধ। পরে ম্যান অ্যান্ড কোম্পানির পক্ষে ফারুক হোসেন মেজবাহ হাই’কোর্টে গ্যাসের সংযোগ চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আ’দালত আজ এই আদেশ দেন।
এ বিষয়ে নোটিশে বলা হয়, সিলেটের নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ভবনের বিপরীত পাশেই গার্ডেন টাওয়ারের অবস্থান। এতে শতাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাওয়ারের পাশেই ম্যান অ্যান্ড কোম্পানির মালিকানাধীন গার্ডেন ইন হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের সিলেট উত্তর আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. ফজলুর রহমান মিয়ার নোটিশে বলা হয়, উপর্যু’ক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনার আঙ্গিনায় গত ১৪ জুলাই ভিজিল্যান্স টিম কর্তৃক পরিদর্শনকালে ১৯৩টি দ্বৈত চুলা পাওয়া যায়। যেখানে অনমোদিত চুলার সংখ্যা ছিল ১১২টি। অ’বৈধভাবে ৮১টি চুলা ব্যবহার করায় আম’রা তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছি।’
নোটিশে আরও বলা হয়, জালালাবাদ গ্যাসের প্রেরিত পত্রসূত্রে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুযায়ী ৮১টি দ্বৈত ও দু’টি একক চুলার জন্যে অ’তিরিক্ত জামানত বাবদ ৪৮ হাজার ৮২৬ টাকা পরিশোধ করার জন্য বলা হলেও তা করেননি।
অনুমোদিত ৮১টি চুলার সংযোজন করে গ্যাস ব্যবহার বাংলাদেশ গ্যাস আইন ২০১০-এর গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী ২০১৪-এর বর্ণিত নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে রিট’কারী আইনজীবীর দাবি, ২০০৪ সালে নির্মিত গার্ডেন টাওয়ারে শুরু থেকেই জামানত দিয়ে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা হচ্ছিল। হঠাৎ করে সব গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। তাই আম’রা হাই’কোর্টে এসেছি। হাই’কোর্ট ওই আবেদন শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। সূত্রঃ জাগোনিউজ