![]()

ওয়েছ খছরুঃ করো’নার ‘হট স্পটে’ পরিণত হয়েছে সিলেট। মৃ’ত্যুর মিছিল চলছে সিলেটে। প্রতিদিনের এই মিছিল সিলেটে বাড়িয়েছে শ’ঙ্কাও। ছাতকের বুড়াইয়া গ্রামের ধনাঢ্য জাহির আলী আখালিয়ার মুহাম্ম’দীয়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। স্ত্রী’ পারুল আক্তার কয়েক মাস ধরেই নানা অ’সুখ-বিসুখে আ’ক্রান্ত। এ কারণে স্ত্রী’কে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মাস খানেক ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় স্ত্রী’কে নিয়ে নগরীর আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতা’লে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতা’লে স্ত্রী’কে দেখভাল করতে করতেই নিজেও হয়ে পড়েন অ’সুস্থ।
নমুনা পরীক্ষা করালে তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। করো’না আ’ক্রান্ত হয়ে গত রোববার সকাল ৮টায় মা’রা গেছেন স্বামী জাহির উদ্দিন। তার মৃ’ত্যুর ৪ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় মা’রা গেছেন উপসর্গে ভুগতে থাকা স্ত্রী’ পারুল আক্তারও। মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রী’র মৃ’ত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। জানালেন- ‘করো’না ভ’য়াবহতা আন্দাজ করা কঠিন। কেবল যারাই ভুক্তভোগী হয়েছে তারাই কেবল বুঝতে পারেন করো’নার ভ’য়াবহতা।’ বয়োবৃদ্ধ জাহির উদ্দিনের বাড়ি ছাতকের বুড়াইয়া গ্রামে।
ছে’লে আজহার উদ্দিন বসবাস করেন ফ্রান্সে। আর মে’য়ে নাজমিন আক্তার পরিবারসহ বসবাস করেন বৃটেনে। বাড়িতে কেবল স্বামী-স্ত্রী’ দু’জনই। তবে, কয়েক বছর ধরে তারা সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। জাহির উদ্দিনের স্বজন ধ’রাধরপুর গ্রামের সোহেল আহম’দ জানান, তার খালা পারুল আক্তার কয়েক বছর ধরেই অ’সুস্থ। হার্টের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগ ছিল তার। প্রায় মাস খানেক আগে তিনি গুরুতর অ’সুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে তাকে এনে ভর্তি করা হয়েছিল আখালিয়ার মাউন্ট এডোরা হাসপাতা’লে। খালার অ’সুস্থতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তার স্বামী জাহির উদ্দিনও। অ’সুস্থ স্ত্রী’কে সেবা করতে হাসপাতা’লেই ছিলেন তিনি। মাঝে মধ্যে যাওয়া-আসা করতেন বাসায়। হাসপাতা’লে থাকা অবস্থায়ও করো’না উপসর্গ ধ’রা পড়ে জাহির উদ্দিনেরও। এরপর নমুনা পরীক্ষা করালে তার করো’না পজেটিভ আসে। স্ত্রী’র সঙ্গে হাসপাতা’লে ভর্তি ছিলেন জাহির উদ্দিন। সোহেল জানান, হাসপাতা’লে ভর্তি থাকা অবস্থায়ই দু’জনের শরীর ভেঙে পড়েছিল। উন্নতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না। এমনকি ডাক্তাররাও কোনো আশ্বা’স দিতে পারেননি।
শেষ মুহূর্তে ডাক্তারের পরাম’র্শে শনিবার তাদের আখালিয়াস্থ মোহাম্ম’দিয়া আবাসিক এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাসায় থাকা অবস্থায় রোববার সকাল ৮টায় করো’না আ’ক্রান্ত জাহির উদ্দিন মা’রা যান।
এদিকে, স্বামীর মৃ’ত্যুর ৪ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় মা’রা যান স্ত্রী’ পারুল আক্তারও। একদিনে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রী’র মৃ’ত্যুতে স্বজনরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। এমন মৃ’ত্যু স্বজনদের নাড়া দিয়েছে বলে জানান সোহেল আহম’দ। প্রবাসে থাকা ছে’লে, মে’য়ে ও আত্মীয়রাও শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। এদিকে, মৃ’ত্যুর পর জাহির উদ্দিনের স্বজনরা দু’জনের লা’শ গ্রামের বাড়ি ছাতকের বুড়াইয়া গ্রামে নিয়ে দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু করো’নায় মৃ’ত্যু ও স্বাস্থ্যবিধির কারণে সেটি আর করা যায়নি। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নগরীর মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করেন। জাহির উদ্দিনের ভাতিজা ও
আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আমীন সিদ্দিকী’ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মা’থায় রেখে তাদের দাফন করা হয়েছে মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে। রোববার রাতে জানাজা শেষে তাদের ম’রদেহ দাফন করা হয়েছে। তিনি জানান, করো’নার মৃ’ত্যুর ভ’য়াবহতা কেবল যারা আ’ক্রান্ত হয়েছেন কিংবা আ’ক্রান্তদের সেবা করেছেন কেবল তারাই বলতে পারবেন। একইভাবে করো’না আ’ক্রান্ত হয়ে গত বুধবার তার মায়েরও মৃ’ত্যু হয়েছে বলে জানান নুরুল আমীন।
সিলেটের শামসুদ্দিন হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় ওসমানী হাসপাতা’লে নেয়া হয়েছিল। সেখানে শামসুদ্দিনের চেয়েও নাজুক চিকিৎসা ব্যবস্থা। ওসমানী হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মায়ের মৃ’ত্যু হয়। করো’নার এই দুঃসময়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান নুরুল আমীন।